রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হামলার শিকার হন দুখু সরকার (৩০)। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র প্রার্থী মামুনুর রশীদের পোস্টার লাগাচ্ছিলেন।
অভিযোগের আঙুল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল মালেকের দিকে। অভিযোগ করা হচ্ছে লোহার রড ও লাঠিসোটাসহ মালেকের ক্যাডার বাহিনী ভবানীগঞ্জ বাজারের গোডাউন এলাকায় দুখুর ওপর হামলা করে।
এ সময় গুরুতর অবস্থায় তাকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
দুখু সরকারের ধর্মবোন সুলতানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভবানীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জগ প্রতীকে পেয়ে গত কদিন ধরে মামুন গণসংযোগ করছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোডাউন এলাকায় পোস্টার লাগাচ্ছিলেন মামুনের কর্মী দুখু সরকারসহ আরও কয়েকজন। এ সময় পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আবদুল মালেকের ক্যাডার বাহিনীর প্রধান নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে দুখুদের ঘেরাও করে।
অন্যরা পালাতে পারলেও দুখু মালেকের ক্যাডারদের হাতে ধরা পড়ে যান। এ সময় তার শরীরে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
রামেক হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে জানান, এখনো দুখুর জ্ঞান ফেরেনি। তার সারা শরীরে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। জ্ঞান ফিরলে এক্স-রে করে আঘাতের মাত্রা জানা যাবে।
এদিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহাম্মেদ জানান, দুখুর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল মালেকের সমর্থকরা ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকার কোথাও তাকে পোস্টার লাগাতে দিচ্ছেন না। তার কর্মীদের ওপর হামলা করছেন।
তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাচন অফিসার গোলাম মোস্তফার কাছে বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) আবেদন করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবদুল মালেক।
তিনি জানান, সকল প্রার্থী স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দুখু সরকারের ওপর হামলা কারা করেছে তা তিনি জানেন না।
উল্লেখ্য, ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে মেয়র পদে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।