কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি এমদাদুল হক মন্টুকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে গ্রেফতার হয়। এরপর বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ভূরুঙ্গামারী আমলি আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়।
এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মমিনুল ইসলাম মমিন অধিকতর তদন্তের জন্য আসামি একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনকে ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) তারিখ নির্ধারণ করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন আলী আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) এএসআই আবুল কালাম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মমিনুল ইসলাম মমিন জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলের দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারে এসএম ডিজিটাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের ফিডারের ডিস সংযোগ পরিবর্তন করছিলেন মজনু ও আব্দুল কাদের। এ সময় আকস্মিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন সেখানে এসে ওই দু'জনকে মারধর করেন।
এ খবর শোনার পর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং এসএম ডিজিটাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের সত্ত্বাধিকারী এমদাদুল হক মন্টু সেখানে আসলে ওই চেয়ারম্যান বিনা উস্কানিতে কংক্রিটের ভারী খণ্ড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে এমদাদুল হক মন্টুর মাথার মাঝখানে ফেটে থেঁতলে যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টায় মাথায় গুরুতর জখমের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন এমদাদুল হক মন্টু। এরই প্রেক্ষিতে একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর এমদাদুল হক মন্টুকে ফিরিয়ে এনে আবার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেনের বিরুদ্ধে শুধু সাংবাদিক এমদাদুল হক মন্টুকে আঘাত করার ঘটনা নয়। এর পাশাপাশি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী, হাসপাতালের স্টাফ, বাজার মসজিদের সম্পাদক ও মুয়াজ্জিনসহ অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।