ভুল নকশায় সড়ক নির্মাণ, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 12 December, 2020, 12:54 PM
ভুল নকশায় সড়ক নির্মাণ, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
সুনামগঞ্জে দীর্ঘ ৫ বছরের শেষ হয়নি মোল্লাপাড়া ইছাগড়ি সড়কের সংস্কার কাজ। ফলে সড়ক দিয়ে লক্ষণশ্রী ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ বারো মাস চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সড়কের দুপাশে গার্ডওয়াল না থাকায় বর্ষাকালে হাওরের উত্তাল ঢেউ ভেঙে ফেলে সড়কের অবকাঠামো। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে তিন কিলোমিটার সড়কে হাজারও খানাখন্দের কারণে গ্রামের মানুষ সীমাহীন কষ্টে যাতায়াত করছেন প্রতিনিয়ত।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, সড়ক নির্মাণে ডিজাইনের ত্রুটি থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের চেকনিকারা সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে সড়কটি গেছে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগড়ি গ্রাম পর্যন্ত। সড়কের কাজ না হওয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি পাকা করার জন্য ২০১৬ সালে সংস্কারকাজ শুরু হয়। কিছুদিন কাজ চলার পর বন্যায় বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, কাজের নকশায় ত্রুটি আছে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ। সড়কের দুই পাশে হাওর। চেকনিকারা এলাকা থেকে সামনের দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ পাকা করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা পাকা প্রতিরক্ষা দেয়াল হাওরের পানির ঢেউয়ে ভেঙে গেছে। একইভাবে বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে যাওয়ায় কাদাপানি জমে আছে।
স্থানীয় ও এলজিইডি সূত্র জানা গেছে, এই সড়ক দিয়ে লক্ষণশ্রী ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর, রৌয়ারপাড়, কলাউড়া, নোয়াগাঁও, হালুয়ারগাঁও, গোয়াচুরা, ইছাগড়ি ও শান্তিপুর গ্রামের মানুষ সহজে জেলা শহরে যাতায়াত করে থাকে। দুর্ভোগ নিয়েই তারা চলাচল করছেন।
২০১৬ সালের মে মাসে এই সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। এতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ঠিকাদার ছিলেন জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা মিলন কান্তি দে। তিনি জানান, এলজিইডি থেকে তাকে জানানো হয়েছে কাজের নকশায় ভুল আছে, তাই নতুনভাবে নকশা ও প্রাক্কলন হওয়ার পর কাজ শুরু হবে।
ঠিকাদার মিলন কান্তি দে বলেন, বন্যার সময় এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে কাজ পরিদর্শন করে গেছেন। এরপর নকশায় ভুল আছে বলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি যে টাকার কাজ করেছেন, সেই টাকা এখনো পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু গত ৫ বছরে আর কাজ হয়নি।
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম জানান, এ সড়কটি তাদের বারো মাসের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ মাসের মধ্যে কোন মাসই সড়ক দিয়ে ভালোভাবে চলাচল করা যায় না। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে সড়কের উঁচু অংশে উঠে শহরে আসতে হয় আর শুষ্ক মৌসুমে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করে না।
জামাল উদ্দিন বলেন, সরকার সড়ক বানায় মানুষের সুবিধার জন্য আর এটি বানানো হয়েছে আমাদের অসুবিধার জন্য। সড়কের কাজ শেষ না করলে আমাদের আগের মাটির সড়ক বানাইয়া দেউক।
কলেজ শিক্ষার্থী ইয়াসিন আহমদ জানান, এতো ভাঙ্গাচোরা সড়ক দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে পারে না। শতশত ভাঙা আর গর্তে সড়ক ক্ষতবিক্ষত।
গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, ৫ বছর যাবৎ শুনছি সড়ক ঠিক হইবো কিন্তু ঠিক হওয়ন তো দূরের কথা গাতায় (গর্ত) কেউ মাটি ফেলেন না।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, নকশার ভুলের কথা বলে এতদিন কাজ বন্ধ রাখার পেছনে অবহেলা আছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটি সংস্কার হলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। পাশাপাশি সড়কটি হাওরের মাঝ দিয়ে গেলে মানুষ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
এলজিইডির সুনামগঞ্জ সদর প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, মূলত বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার পরই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠিকাদারকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। পুরোনো নকশায় কাজ হলে সড়ক টিকবে না। এখন নকশা সংশোধন করে আবার নতুন করে কাজ হবে। এজন্য ছয় কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদন হওয়ার পর বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবার কাজ শুরু হবে।