রোববার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় এএসআই রাহেনুল ইসলামকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। আবারও নতুন করে রিমান্ডের আবেদন না করায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, রিমান্ডে থাকাকালে এএসআই রাহেনুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তাছাড়া ভিকটিম নিজেও আদালতে তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে রাহেনুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৪ নভেম্বর এএসআই রাহেনুল ও অপর দুই নারী সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়া এবং সুরভি আক্তার সমাপ্তির সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন জানালে রাহেনুলের পাঁচদিন এবং ওই দুই নারীর তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।
এ মামলায় গ্রেফতার অপর দুই আসামি বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ ২৮ অক্টোবর দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানাধীন ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন মহানগর ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম।
প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীকে ২৩ অক্টোবর সিগারেট কোম্পানির ক্যাদারের পুল এলাকার ডা. শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ওরফে আলেয়ার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন রাহেনুল।
২৪ অক্টোবর রাতে ভাড়াটিয়া মেঘলা ও তার সহযোগী সুরভি আক্তারের সহায়তায় বাবুল ও কালাম তাকে আবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও মেঘলার নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পরে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।