ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৬ জুন ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঝালকাঠিতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়ায় তৎপর প্রার্থীরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 8 November, 2020, 5:33 PM

ঝালকাঠিতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়ায় তৎপর প্রার্থীরা

ঝালকাঠিতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়ায় তৎপর প্রার্থীরা

আগামী বছরের মার্চেই অনুষ্ঠিত হতে পারে ইউপি নির্বাচন। থাকতে পারে দলীয় প্রতীক। এরই প্রেক্ষিতে ঝালকাঠি জেলায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে গেছে হাট-বাজার। বাড়ি বাড়ি কুশল বিনিময়ও করছেন অনেকেই।

চায়ের দোকানে দোকানে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্লেষণ। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানতালে চলছে। আসন্ন ইউপির নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলার ৩২টি ইউপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, মহিলা মেম্বার ও মেম্বার পদ প্রার্থীদের মাঝে বিভিন্ন কৌশলে চলছে প্রচার-প্রচারণা। ইউপি চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতার কাছে উপহার-উপঢৌকন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।  

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২০ মার্চ ঝালকাঠি জেলার ৩১টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ১৫ মে। ঝালকাঠি জেলায়  মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪ হাজার ২২৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ১০ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ২১৭ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ এলাকার ভোটারদের মাঝে দিচ্ছেন আগাম প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন সামাজিক কাজে, অনুষ্ঠানে, পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা করে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে নিজেদের অনুকূলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই। দলীয় সমর্থন পেতে একই আসনে একাধিক প্রার্থীর পক্ষ থেকে চলছে নানারকম তদবির, রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোও বেশ সরগরম। তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ওইসব ইউপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বিউটি সিকদার জানান, ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বিবাহের পর দীর্ঘসময় ইতালিতে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করেছি। কয়েক বছর ধরে এলাকায় জনসেবায় নিয়োজিত হয়েছি। অসহায়, দুস্থ, দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী দাঁড়িয়েছি এবং দাঁড়াচ্ছি। শ্রীমন্ত্রকাঠি বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির তৃতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। অসহায় শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস তৈরি, ফরম ফিলাপের টাকা প্রদানসহ নানা সমস্যায় পাশে দাঁড়াচ্ছি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে একদিকে নারী কোটা অপরদিকে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে কাজে লাগাতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অপরদিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে জনসংযোগ, ব্যক্তি অর্থায়নে উন্নয়নমূলক কাজ, সমাজসেবা, সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ সিকদার এবং ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য তারিকুল ইসলাম তারেক।

নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইদুর রহমান সাঈদ শুক্রবার বিকেলে হদুয়া দরবার শরীফের পীরের কবর জিয়ারত করে অনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে কুশল বিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

দরিদ্র ভোটারদের কাছে টানতেই সাহায্য-সহযোগিতা ও মানবিক আচরণের ছড়াছড়ি চলছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, দয়া, দোয়া ও আশীর্বাদ সংগ্রহের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কে বেশি আগাতে পারেন তা নিয়ে রীতিমতো চলছে প্রতিযোগিতা। আবার ভোটাররাও নানা হিসাব-নিকাশ করছেন প্রার্থীদের আচরণের ধরণ নিয়ে। কোন প্রার্থী কত টাকা সহায়তা দিলেন, কারা সহায়তা পেল আর কারা পেল না তা নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নৌকা-ধানের শীষ প্রতীক পেতে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নেতাদের কাছে দৌড়ঝাপ করছেন। দলের সমর্থন পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূলপর্যায়ে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনসংযোগ, দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পেতে সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে গ্রামগঞ্জে সাহায্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার (ইউপি) আইন অনুযায়ী, আগের নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে (মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিন) নির্বাচন করতে হবে। পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ থাকবে পরিষদের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। দেশে এ পর্যন্ত নয়টি ইউপি নির্বাচন (১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে) হয়েছে।

সম্পাদনায়: খালেদ সুজন

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status