ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলো খুনি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভাই-ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার পর মাটিচাপা দেয়ার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দীন ইসলাম।
শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের ৫ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুন নূর তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে দীন ইসলাম জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শাবল দিয়ে পিটিয়ে বড় ভাই আসাদুজ্জান খান, ভাবি পারভীন আক্তার ও ভাতিজা লিয়নকে হত্যা করে মরদেহ গুমের কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তার মা, বোন ও ভাগনেসহ আত্মীয়-স্বজন হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম অন্য আত্মীয়দের সহায়তায় একাই শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কারা জড়িত তা বের করতে তিন আসামিকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে, দীন ইসলামসহ মামলার অপর তিন আসামি তার মা কেওয়া খাতুন, বোন নাজমা বেগম ও ভাগনে আল- আমিনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কটিয়াদী থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।
নাজমা, কেওয়া খাতুন ও আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আগামীকাল রোববার আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউপির জামষাইট গ্রামে বসতঘরের পাশ থেকে আসাদুজ্জামান খান, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাদের ছেলে লিয়নের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় চাচা, ফুফু, ফুফাতো ভাইসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত আসাদের ছেলে তোফাজ্জল। ঘটনার পরপরই আসাদের ভাই, মা, বোন ও ভাগনেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।