ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ায় শ্রমিকের হাতে ইয়নজুন খুন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 20 October, 2020, 8:49 PM

প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ায় শ্রমিকের হাতে ইয়নজুন খুন

প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ায় শ্রমিকের হাতে ইয়নজুন খুন

প্রকল্প এলাকা থেকে বের করে দেওয়া এবং টাকা ছিনতাইয়ের জন্যই পিরোজপুরের কঁচা নদীর উপর নির্মাণাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত চায়না টেকনিশিয়ান প্যান ইয়নজুন (৫৮) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে, পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজি শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এসময় তিনি বলেন, নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পে শুরু থেকেই শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো পিরোজপুর পৌরসভাধীন মরিচাল গ্রামের হায়দার আলী শেখ এর ছেলে সাব্বির আহম্মেদ শেখ (২০)। এরপর এ বছরের মার্চ মাসে সে তার আরেক বন্ধু একই গ্রামের ছোরাপ শেখ এর ছেলে হোসেন শেখ (১৯) কে ওই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তবে হোসেন এর কাজ ভালো না হওয়ায় মাত্র ১৪ দিনের মাথায় তাদের দায়িত্বে থাকা প্যান তাকে প্রকল্পের কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয়। এমনকি সে চলে আসার সময় একটি ওয়াকিং হেলমেট নিয়ে আসে। এজন্য প্যান তার মজুরি থেকে ৫০০ টাকা কেটে রাখে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত ছিলো হোসেন। তবে এ ঘটনার পর বেকার হয়ে পড়ায় সে প্যান এর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। আর এ কাজে তাকে সহযোগীতা করে ওই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত বন্ধু সাব্বির। ঘটনার আগের দিন ৬ অক্টোবর সাব্বির মোবাইলে হোসেনকে জানায় যে পরের দিন সন্ধ্যার পর প্যান টাকা নিয়ে শ্রমিকদের দেওয়ার জন্য প্রকল্প এলাকায় যাবে। এরপর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চায়না ব্যারাকের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে ঘাতক হোসেন। প্যান ব্যারাক থেকে সাইকেলযোগে বেরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর তার সঙ্গে থাকা টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হোসেন। এতে সে বাধা দিলে হোসেন তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে এ সময় ব্যাগের মধ্যে কিছু টাকা থেকে যায়। এরপর পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় প্যান।

এ ঘটনায় পুলিশ ওইদিন রাতে দুইজনকে আটক করে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই বলেও জানায় পুলিশ। এরপর ১২ অক্টোবর হোসেন এবং সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তারা আদালতের কাছে গত ১৮ অক্টোবর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়া চায়না নাগরিকের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং কাজী শাহনেওয়াজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে সহযোগীতা করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান পুলিশ সুপার।


সম্পাদনা: এম আলমগীর 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status