ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পল্লবীর রামিসা হত্যা রায়: স্বপ্নার পরিবার বিচার চায় ও সোহেলের পরিবারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মোঃ আবু রাসেল, সিংড়া
প্রকাশ: Sunday, 7 June, 2026, 7:31 PM

পল্লবীর রামিসা হত্যা রায়: স্বপ্নার পরিবার বিচার চায় ও সোহেলের পরিবারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পল্লবীর রামিসা হত্যা রায়: স্বপ্নার পরিবার বিচার চায় ও সোহেলের পরিবারের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়া পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (০৭) কে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড। আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৮) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শরীর থেকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করা বিকৃত মানসিকতার খুনি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্নার বাড়ি নাটোরের সিংড়ায়। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের বিচারে অভিযুক্ত দম্পতির সর্বোচ্চ সাজার রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার। এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিংড়ার মানুষও। দেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ সমাপ্তি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো বলে মনে করছেন আইনজীবী ও সুধীসমাজ। 

রবিবার (৭ই জুন) দুপুরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারি সোহেলের নিজ এলাকায় নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন। 

এদিন দুপুরে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে অনান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়। দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায়ের কথা তারা জানতেন না। স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ি এসে রায় ঘোষণার কথা জানান। 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।

সোহেলের পিতা জাকির হোসেন ও সোহেলের মা সাজেদা বেগম বলেন, আমরা এতোটাই গরীব যে আপিল করার মতো টাকা আমার নাই। সরকার আইনজীবী দিলে আমরা আপিল করব।

 স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল বলেন, এ ঘটনা মেনে নেয়ার মত না।  আমি মেয়েকে আগেই ত্যজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। কোনো আপিল পরিবার থেকে করবো না।  

প্রতিবেশী আবুবক্কর ও আবু সাইদ বলেন, স্বপ্নার কপালে শনি পড়েছে। সোহেল তার তৃতীয় স্বামী।  বাবা মার অমতে তাকে বিয়ে করার পর তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক আর ছিলো না। সঙ্গ দোষে লোহা ভাষে তেমনি স্বপ্না এমন ঘটনায় জড়িত হয়েছে। সোহেলের মত খারাপ ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ায় তার কাল হয়েছে।  আমরা তাদের দুজনের শাস্তি চাই। 

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের রয়েছে কলঙ্কিত অতীত। এলাকাতে পরকীয়া, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন তিনি। চার বছর আগে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় আসে সোহেল। 

উল্লেখ্য, ১৯ মে পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status