ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২০ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
পুলিশ ধইরা নিয়া কয় তুই মানুষ খুন করছস
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 2 October, 2020, 3:05 PM

পুলিশ ধইরা নিয়া কয় তুই মানুষ খুন করছস

পুলিশ ধইরা নিয়া কয় তুই মানুষ খুন করছস

নারায়ণগঞ্জে ছয় বছর পর মৃত মামুনের ফিরে আসায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই মামলায় ছয়জনকেই গ্রেপ্তার করে দফায় দফায় রিমান্ডে নিলেও কোনও আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তবে মামলার আসামি সাত্তার মোল্লার সাবেক স্ত্রী মাকছুদা এই মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষী হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ জবানবন্দিকে কেন্দ্র করেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

তাসলিমা জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ১২ নম্বর কক্ষে আসামিরা মামুনকে হত্যা করে। পরবর্তীতে সেই মরদেহ সিএনজিতে করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়ে আসে। তিনি নিজেও তার স্বামী সাত্তার মোল্লার পরনের লুঙ্গিতে রক্তের দাগও দেখেছেন বলে আদালতকে জানান। জবানবন্দিতে সাত্তার মোল্লাকে স্বামী দাবি করলেও ওই সময়ে তাদের দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে বলে জানান সাত্তার মোল্লা।

এ মামলার এক আসামি সাগরের মা আমেনা বেগম জানান, আমার পোলারে ধইরা নিয়া কয়, তুই মানুষ খুন করছোস’। ওরে নিয়া হাঁটুর নিচে লাঠি বাইন্দা ইচ্ছামত পায়ে মারলো। যার লইজ্ঞা আমার পোলারে মাইরা কোমড়, পা ব্যথা বানায়া দিলো ওই পোলা ঠিকই বাইচ্চা ফিরছে। আমার পোলার ব্যথা ফিরায়া নেব কে? কে দিব এই ক্ষতিপূরণ?

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ও নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ মে একটি নম্বর থেকে ফোন পেয়ে মতলব থেকে নারায়ণগঞ্জ চলে আসে মামলার প্রধান নায়ক মামুন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে মামুনের বাবা আবুল কালাম। মামলায় আসামি করা হয় গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা, তার বাবা রকমত আলী,  ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল, সাগর ও তার মামা সাত্তার মোল্লাকে।

এই মামলায় ছয়জনকেই গ্রেপ্তার করে দফায় দফায় রিমান্ডে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু কোনও আসামিই এই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তবে মামলার আসামি সাত্তার মোল্লার স্ত্রী অর্থাৎ তাসলিমার মামী মাকছুদা এই মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষী হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ সময় তিনি বলেন, ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ১২ নম্বর কক্ষে আসামিরা মিলে মামুনকে হত্যা করে। পরবর্তীতে সেই মরদেহ সিএনজিতে করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়ে আসে। তিনি নিজেও তার স্বামী   সাত্তার মোল্লার পরনের লুঙ্গিতে রক্তের দাগও দেখেছেন বলে আদালতকে জানান।

ফতুল্লা থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও পরবর্তীতে সিআইডি এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেন। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার ছয় আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন উজ্জ্বল।

গেলো ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনার ছয় বছর পর আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয় গুমের খুন হয়ে যাওয়া সেই মামুন।

সম্পাদনা: এম আলমগীর

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status