সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভিটে-মাটি দখলের পায়তারার সাথে প্রাণ নাশের হুমকি ও দিয়ে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল, তাই চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছে বোগলাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের পরিবারের লোকজন।
শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্ব) সরেজমিনে উপস্থিত হয় স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার শশুর মারা যাওয়ার পুর্বে তার স্ত্রীর নামে সাফকাওলা দলিল মূলে রেজিস্ট্রার দেন তারই শশুর আব্দুল মোতালিব, বোগলাবাজারের সাড়ে ৭.৫ শতক ভূমি। সেই ভূমির সূত্র ধরেই চলছে, একের পর এক হুমকি ধামকি ও ভিটে-মাটি দখলের পায়তারা। এতে প্রতিটা মুহূর্ত আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটিকে। প্রভাবশালী এই মহলটি অনেক সময় নিজেরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে, অন্যকে দিয়ে হলেও নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে মুক্তিযুদ্ধা পরিবারকে। মুক্তিযুদ্ধার স্ত্রী লতিফা বেগম (বিমলা) তার বাবার মৃত্যুর পর তার সৎ ভাই সার্রফুল ইসলাম সাবেক ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধার স্ত্রীর বাবা আব্দুল মোতালিবের মৃত্যুর সঠিক তারিখ না দিয়ে ভূয়া মৃত্যু সনদ তৈরী করেন। এই ভূয়া জাল সনদ দিয়ে হয়রানি মুলক মিথ্যা মামলাও দায়ের করেন। মুক্তিযুদ্ধার শশুর আব্দুল মোতালিবের মৃত্যু হয় ১৯/০৬/২০০০ সালে। সারপুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আহমদ আলী আপনের সহযোগিতায় ভূয়া মৃত্যু সনদ নিবন্ধনে লেখা হয় আব্দুল মোতালিবের মৃত্যু ২২/০২/২০০০ সালে। যাহার মধ্যে ৪ মাসের ব্যবধান রয়েছে। আব্দুল মোতালিবের মৃত্যুর পুর্বে ০১/০২/২০০০ সালে চিকিৎসার জন্য মেয়ের কাছে জমি বিক্রি করেন রেজিস্ট্রারী দলিল মূলে। সেই বসত ভিটাটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় ওই স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধা পরিবারকে সড়াতে মরিয়া, এই প্রভাবশালী মহল।
ভূয়া মৃত্যু সনদ তৈরী করার কারণে সার্রফুল ইসলাম ও লক্ষিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী আপনের উপর আদালতে মামলা করেন লতিফা বেগম (সমলা)। আদালতে সেই মামলার তদন্ত করেন তৎকালীন দোয়ারাবাজার থানার এসআই নুরুল হক। তদন্তে মৃত্যু আব্দুল মোতালিবের মৃত্যু সনদ ভূয়া প্রমানিত হয়। আদালতে মামলাটি জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ায়, আসামীরা জেলের ভয়ে ঐ সময় মানুষ লাগিয়ে মামলাটি আপোষে শেষ করেন।
মামলা শেষ হলেও মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের উপর চলে নানা অনিয়ম জুলুম নির্যাতন, একই বাজারে বসবাস রত মুক্তিযোদ্ধার বড় মেয়ে আব্দুর রূপ মাষ্টারের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন শিল্পীর বাসায় প্রতিনিয়ত হামলা চালায়, একটি কু-চক্রী মহল, তারা হল একই সীমানায় বসবাস রত বোগলাবাজারের সুলতানের পুত্র মনির হোসেন, মৃত সেকান্দরের পুত্র মাসুদ মিয়া, নিলুফা ইয়াছমিন, রানুয়ারা আক্তার, সাহেদা আক্তার। ইতিপূর্বে অনেক বার প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তারা শিল্পীর বাসায় হামলার পাশাপাশি তার উচ্চ শিক্ষিত মেয়েদের উপর ইভটিজিং ও অকথ্য ভাষায় গালি গালাজের সাথে, এসিড নিক্ষেপ করে মারার হুমকি ও দিয়ে আসছে।
লক্ষিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ আলী আপন জানান, কয়েক দিন পুর্বে বোগলাবাজারের সুলতানের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। সেখানে পঞ্চাত পক্ষ হিসাবে আমি সহ অনেকে ছিল। তারা কেউ কাউকে ছাড় দেয়না। সেই কারণে হয়তু আমার বিরুদ্ধে ও কথা বলেছে। আমার খোলা ল্যাট্রিনটি ব্যবহার হয়না। এব্যাপারে জানতে চাইলে সারপুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আমার বোন জামাই, লতিফা বেগম সমলা আমার বোন, মুক্তিযোদ্ধার দাপটে আমার বাবার সম্পদ তারা দখলে নিয়েছে। বাবার মৃত্যুর তারিখ নিয়েও মামলা হয়েছে। এক সময় তাদের সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, এখন আমি আমার মত চলি। তারাও আমাকে কিছু বলে না, আমিও তাদের সাথে চলি না। বর্তমানে কে কি করছে না করছে সে বিষয় আমার জানা নেই।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, আমি মানুষের এমন কি ক্ষতি করেছি জানা নেই। একের পর এক স্বার্থেনীশি কূ-চক্রী মহল আমার পরিবারের উপর হুমকি ধামকি সহ আমার ভিটে-মাটি দখলের পায়তারা করছে। আমার মেয়ের বাসায় হামলা চালায়। ঘরথেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
বোগলাবাজারের ঔষধের সেইলম্যান মোস্তফা গাজী জানান, প্রায় সময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাড়িঘরে অর্তকীত হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। যারা হামলা চালায় তাদের ভয়ে বোগলা এলাকায় কেউ মুখ খুলে নাই। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী লতিফা বেগম সমলা প্রতিবেদককে জানান, বোগলাবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ আলী আপন আমার বসত ঘরের সীমানার সামান্য জমি দখল করেছে। আমার খাবার পানি উঠানু ইন্ধিরার নিকটবর্ত্তী সামনে আপন চেয়ারম্যান খোলা ঝুলন্ত পায়খানা বসিয়ে বাড়ির পরিবেশ নষ্ট করেছে। আমার সৎ ভাই সারপুল ইসলাম ও শাহজাহান কবির ইকবাল অন্যকে দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। বোগলাবাজারের সুলতানে ছেলে ও তাদের পরিবারে লোকজন আমার মেয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে। বাসায় একাধিক বার হামলা ও এসিড নিক্ষেপ করে আমার নাতনীদের হত্যার হুমকি দেয়। ইউপি সদস্য বুলবুল আহমদ বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ আলী আপন ভাই খুব ভাল মানুষ, তবে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের বাসার সাথে বোগলাবাজারের সুলতানের পুত্র মনির হোসেন, মৃত সেকান্দরের পুত্র মাসুদ মিয়া, নিলুফা ইয়াছমিন, রানুয়ারা আক্তার, সাহেদা আক্তার তারাই হুমকি ধামকি, হামলা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে।
এব্যাপারে বোগলাবাজারের মিলন খান বলেন, শুধু আমি না তৈয়ব মাষ্টার সহ অনেকেই তাদের বিষয় গুলো ভাল জানেন, দীর্ঘদিন যাবত তাদের মধ্যে একাধিক বিরোধ, চলে আসছে।