বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন কার্যক্রম সংযোজন করলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, আর কোনো বর্জ্য আমরা দেখতে চাই না। উন্মুক্ত স্থান থেকে বর্জ্য অপসারণে নতুন কর্ম-কৌশল নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করবে। আমরা এখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে আমাদের সকল বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম শুরু করব। ভোর ৬টার আগে ঢাকা দক্ষিণের সকল এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ফকফকা হয়ে যাবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে ধানমণ্ডি-২৭ এলাকায় নতুন এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে মেয়র একথা বলেন। এসময় নতুন কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন মেয়র।
মেয়র তাপস বলেন, আমাদের ৭৫টি ওয়ার্ড। আগে সকল ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা ছিল না। শুধুমাত্র পুরাতন ৫৭টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ছিল। আজ থেকে পুরো ৭৫টি ওয়ার্ডেই ঢাকা দক্ষিণের সকল এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আরাম্ভব হলো।
তিনি বলেন, আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজিয়েছি। সেখানে আমাদের ৫ হাজার ৩৯১ জন পরিচ্ছন্নকর্মী নিরলসভাবে কাজ করবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে তারা ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফকফকা করে তুলবে। নতুন কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন মেয়র
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুনভাবে নির্ধারিত প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের জন্য একটি করে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী সংস্থা (পিসিএসপি) প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বাসাবাড়িসহ সকল জায়গা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে আমাদের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র বা সেকেন্ডারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে (এসটিএস) সেই বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে তারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে। রাত ১০টা থেকে ট্রাকের মাধ্যমে কম্পেকটার দিয়ে আমাদের মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় বর্জ্য ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তর করব।
মেয়র বলেন, আমাদের সকল ওয়ার্ডে এসটিএস নেই। এরইমাঝে প্রকল্প গ্রহণ করছি। ২০২১ সালের মধ্যেই ৭৫টা ওয়ার্ডেই আমাদের পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করব। আমাদের পরিচ্ছন্নকর্মীরা প্রত্যেকটি সড়কে সেটা ছোট হোক আর বড় হোক কিংবা সংযোগ সড়ক সকল সড়কে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঝাড়ু দিয়ে এবং নর্দমার পাশ দিয়ে ময়লা অপসারণ করে সেগুলো ট্রাকে নিয়ে অপসারণ করবে এবং ডিএসসিসির নির্ধারিত পানির গাড়ির মাধ্যমে রাস্তাগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে দেবো। ভোর ৬টার আগে সকল এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ফকফকা হয়ে যাবে।
এর মাধ্যমে ঢাকা নগরীকে একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে শুধু ঢাকাবাসী না, দেশবাসী না বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরব। এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে ২৪টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র আছে, আগামী ডিসেম্বরের মাধ্যে আরো ৮টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হবে। আগামী বছরের মধ্যে বাকি সকল ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা শহরে কোনো রাস্তায় আর কোনো বর্জ্য পাওয়া যাবে না।
ঢাকাবাসী, মার্কেট বা দোকান মালিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনার সকাল ১০টার সময় দোকান খোলেন এবং দোকান খোলার পর ঝাঁড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন, দেখা যায় ফুটপাত বা রাস্তার ওপর বর্জ্য ফেলা রাখা হচ্ছে। এভাবে আর বর্জ্য ফেলবেন না। আপনারা সংগ্রহ করে রাখবেন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সংগ্রহকারীরা আপনাদের বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করে নিবে আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে পৌঁছে দিবে। সুতরাং রাস্তায় ফুটপাতে আর বর্জ্য ফেলার কোনো সুযোগ থাকবে না। রাস্তায় উন্মুক্ত স্থানে আর কেউ বর্জ্য ফেলবেন না। সকলের প্রত্যেশা সুন্দর পরিবেশ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঢাকা নগরী। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে হলে, আমাদের প্রাণের শহর, প্রাণের ঢাকা গড়তে হলে আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও সহায়তা একান্ত কাম্য।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন ও ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা প্রমুখ।