ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা ৷এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে, হাওড়া এবং হুগলি জেলায়ও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে তিনজন মারা গেছে কলকাতায়।
এমন পরিস্থিতে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করেছেন ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজ্যের অবস্থা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে ৷ যেকোনও প্রয়োজনে রাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তারা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ীই সর্বশক্তি নিয়ে সুপার সাইক্লোন আম্ফান আঘাত হেনেছে পশ্চিমবঙ্গে। সাগর থেকে ধ্বংসলীলা চালাতে চালাতে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে দুই ২৪ পরগণাসহ কলকাতা ৷ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা ৷
এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, যেভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে আম্ফান, তাতে পুরো ধ্বংসচিত্র বুঝতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লেগে যাবে ৷
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে গাছের নিচে চাপা পড়ে মানুষ মারা গেছে, অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, পানি নেই ৷ রাজারহাট, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, গোসাবা সব জায়গাই বিপর্যস্ত। ঘূর্ণিঝড়ে বহু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি ৷ আমি স্তম্ভিত ৷ রাজ্যের পুরো সর্বনাশ হয়ে গেল ৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধ্বংসের হাত থেকে উন্নয়নের পথে আবারও সবাইকে শামিল করে একসঙ্গে কাজ করব। দিঘাতে তেমন বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তবে সর্বনাশ হয়ে গেছে দুই পরগণার। আমাদের অফিস নবান্নও অর্ধেকটা ভেঙে গেছে। কতটা ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না ৷