গত সপ্তাহের শেষের দিকে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুনক্স জু কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের চিড়িয়াখার একটি বাঘ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নাদিয়া নামের ওই বাঘের সংস্পর্শে যাওয়া এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হওয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই বাঘসহ আরো পাঁচটি বাঘ এবং তিনটি সিংহের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেছে। এরই মধ্যে প্রাণীগুলোর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে করোনা পরীক্ষার জন্য। তবে প্রাণীগুলোর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাদিয়া এবং একই চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীদের মধ্যেই প্রথম করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নজরে আসে। এর আগে হংকংয়ে কুকুরের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে প্রাণীদের শরীরে করোনা সংক্রমণের ফল কতটা ভয়াবহ তা এখনো জানা যায়নি।
হংকংয়ের সরকারি কর্মকর্তারা গত ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে জানান, বেশ কয়েকটি কুকুরের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রাণী মারা যায়নি এবং গুরুতর অসুস্থ হয়েও পড়েনি। যদিও ১৭ বছর বয়সী একটি কুকুর করোনামুক্ত হওয়ার পর মারা গেছে। তবে সেই কুকুরের মালিক মৃত্যুর বিষয়টি আর সরকারি কর্মকর্তাদের জানাননি।
ফ্লু'র চেয়েও বেশি কিছু
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে হাঁচি-কাশি, গলাব্যথা, জ্বর থাকার কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হলে জিহ্বার স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে এবং গন্ধ নেওয়ার অনুভূতি থাকবে না।
তবে চিকিৎসক এবং গবেষকরা এবার নতুন এক গবেষণায় দেখেছেন, করোনা আক্রান্ত অনেকেরই হার্টের ক্ষতি হচ্ছে। একপর্যায়ে হার্ট অ্যাটাকে রোগীর মৃত্যুও হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনা রোগীর মধ্যে মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মস্তিষ্ক ফুলে যাচ্ছে, খিঁচুনি হচ্ছে এবং একপর্যায়ে স্ট্রোক করে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। যারা গন্ধ নেওয়ার অনুভূতি হারিয়ে ফেলছেন, তাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
গবেষকরা আরো জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধাপে পাতলা পায়খানা থেকে শুরু করে ডায়রিয়া হতে পারে। এমনকি অনেকের বমি হওয়ার মধ্য দিয়ে লক্ষণ প্রকাশ হতে শুরু করে। তরুণদের মধ্যেও আক্রান্ত হলে শ্বসকষ্টের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।