ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২২ মে ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি মহামারি হবে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 9 March, 2020, 10:34 PM

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি মহামারি হবে?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি মহামারি হবে?

গত রোববার বিকেলবেলা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, বাংলাদেশে ৩জন করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে আলাদা রাখা হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন। এর পরপরই সারাদেশে জনমনে নানা রকম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মাস্ক এবং স্যানিটাইজেশন কেনার ধুম পড়ে যায়। অনেকে আবার চালডাল মজুদ করাও শুরু করে দেয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, সচেতনেতাই হলো করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।

প্রশ্ন উঠেছে, যে দেশগুলোতেই করোনা ভাইরাস ঢুকেছে সে দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে চীনের পর ইতালি, কোরিয়া এবং ইরানে এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। আরো ১০০টি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে যে, করোনা ভাইরাস কি বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে? এর বিস্তৃতি বাংলাদেশে কতদূর হবে?

গতকাল প্রথম রোগি সনাক্ত হওয়ার পর আজ নতুন রোগি পাওয়া যায়নি। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার প্রস্তুতির ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনও করেছে। বাংলাদেশে নানা কারণে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত; বাংলাদেশ অনেক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে হাঁটাপথে, বাসে বিভিন্ন জনসমাগম হয় এরকম জায়গাগুলোতে মানুষের তিল ফেলার জায়গা থাকে না। সবসময় ঘেষাঘেষি গা ছোয়া ছুয়ি ইত্যাদি চলে। করোনা ভাইরাস ছড়ানোর এখন পর্যন্ত যে পদ্বতিগুলো জানা গেছে, তার মধ্যে হাত দিয়ে ছুলে বা স্পর্শে এটি ছড়িয়ে যায়, সেজন্য এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

দ্বিতীয় যে ঝুঁকি বাংলাদেশে রয়েছে তা হলো; বাংলাদেশের অভিবাসী সারা বিশ্বজুড়েই রয়েছে। অভিবাসীরা সবসময় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুইজনই ইতালি থেকে এসেছেন। যখন ইতালি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জন্মভূমিকেই বেঁছে নেন। বাংলাদেশি অভিবাসীরা এমনই যে, তাঁরা যখন বিপদে পড়েন তখন তাঁরা স্বদেশকেই বেঁছে নেন। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অভিবাসীই দেশে ফিরেছেন এবং এদের কাছে করোনাভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন যে, করোনাভাইরাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে যে, এটা ১৪ দিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে। অনেক সময় জ্বর বা যেকোন উপসর্গ ছাড়াই এটা দেহের মধ্যে থাকে, একটা সময় এটা প্রকাশ পায়। এর ফলে যে বিপুল পরিমাণ বিদেশ ফেরত বাংলাদেশির মাধ্যমে এই রোগ ছড়াতে পারে।

তবে পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, করোনাভাইরাস বাংলাদেশে এসেছে অনেক বিলম্বে, যখন এর সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রতিকারের উপায় নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখেছে। ফলে বর্তমানে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভালো প্রস্তুতি ছিল।

দ্বিতীয় ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বাংলাদেশ একটি তরুণ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যা, অসুস্থ-বৃদ্ধরাই এই ভাইরাসের প্রধান শিকার। কাজেই বাংলাদেশে যদি করোনাভাইরাস দেখাও দেয়, তাহলে এর মহামারি আকার ধারণ করার সম্ভাবনা খুবই কম একারণে যে, তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ এই নিয়ে সচেতন এবং করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ নানারকম সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নিজেদেরকে সংশ্লিষ্ট করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় শুরু থেকেই করোনাভাইরাস মোকাবেলার করণীয় নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।

কাজেই এইসব বিচার-বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি হবার সম্ভাবনা খুবই কম এবং বাংলাদেশ হয়তো বা এমন দেশ হবে যেখান থেকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক থেকে পুরো বিশ্ব মুক্তি পাবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status