পটুয়াখালীতে তুচ্ছ ঘটনায় মোসা. কনা আক্তার নামে দুই শিশু সন্তানের মাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পুলিশ মাদকাসক্ত স্বামী আবুল বাশারকে আটক করে জেলে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনার বিচারের দাবিতে রোববার পটুয়াখালী প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মধ্য টেংরাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শ্বশুর ইসমাইল মৃধা পলাতক রয়েছেন। সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউপির হাঝিখালী গ্রামের দরিদ্র প্রতিবন্ধী সিরাজ মৃধার মেয়ে এ কনা।
নিহত কনার বাবা সিরাজ মৃধা ও তার পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার পরিবারের সবাই মিলে দুপুরের খাবার খেতে বসে। এ সময় ডাল রান্না খারাপ হওয়ার অজুহাত তুলে শ্বশুর ইসমাইল মৃধা ছেলের স্ত্রী কনাকে বকাঝকা করে। এ সময় মাদকাসক্ত স্বামী বাশার তার বাবার সঙ্গে মিলে স্ত্রীকে মারধর শুরু করে। একপর্যায় স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে কনার হাত-পা বেঁধে মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত ঘরে মজুদ রাখা পেট্রোল কনার শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এতে কনা দগ্ধ হয়ে বাড়ির আঙিনার পাশের একটি ছোট জলাশয়ে নেমে চিৎকার শুরু করে। কনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কনাকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে কনার শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে যায়। উদ্ধারের পর প্রতিবেশীরা কনাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা কনার অবস্থার অবনতি দেখে বরিশাল প্রেরণ করেন।
ঘটনার দুই দিনের মাথায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কনাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করে। ঢাকা মেডিকেলে পাঁচ দিন চিকিৎসার পর শুক্রবার বিকেলে মারা যায় কনা। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে কনার স্বামী বাশারকে আটক করে এবং কনার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
রোববার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিবেশীরা জানান, ছয় বছর আগে আবুল বাশার কনাকে বিয়ে করে। কনা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বর্তমানে তার নোমান নামে চার বছরের ও নোহান নামে ১৬ মাসের দুই ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই কনাকে ব্যাপক নির্যাতন করতো স্বামী বাশার। আর এ নির্যাতনে সহায়তা করতেন কনার শ্বশুর ইসমাইল মৃধা। ছয় বছর আগে প্রথম স্ত্রী জেসমিন আক্তার শ্বশুর ও স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যায়।
এলাকাবাসী আরো জানান, স্বামী প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে স্ত্রী কনাকে মারধরসহ অসহনীয়ভাবে নির্যাতন করতো।
কনার শাশুড়ি নুরজাহান বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি অন্যের বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখে কনা আগুনে জ্বলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় রোববার সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। স্বামী বাশারকে আটক করা হয়েছে।