|
ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে ২ মাসে দেড় হাজার অভিযোগ! (পর্ব-২)
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
|
ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে ২ মাসে দেড় হাজার অভিযোগ! (পর্ব-২) এ ঘটনাটিকে মাথায় রেখে অনুসন্ধানে নামে নতুন সময়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করার আইন থাকলেও সেই আইনের তোয়াক্কা করছে ইভ্যালি নামের ওয়েবসাইটটি। ফলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জমে উঠছে অভিযোগের পাহাড়। আরও পরুন গ্রাহক ভোগান্তির নাম ইভ্যালি (পর্ব-১) ইভ্যালিতে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট! জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ওয়েবসাইটটির বিরুদ্ধে দুই মাসে অভিযোগ জমা পড়েছে দেড় হাজারের বেশি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি ও চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে অনলাইন কেনাবেচায় প্রতারিত গ্রাহকের। এসবের মধ্যে ৮০ ভাগই ইভ্যালির বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এসব অভিযোগের অধিকাংশই সময়মত পণ্য ডেলিভারি না দেওয়া, অর্ডার দেওয়া পণ্য ক্যানসেল করে গ্রাহকের টাকা ফেরত না দেওয়া সংক্রান্ত। তবে মিলছে না সুরাহা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোক্তা অধিকারের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার এবং তাঁদের কার্যক্রমের কারণে অভিযোগের হার বেড়েছে। একসময় দারাজ নামের একটি ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতো এখন ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিদিন শত শত অভিযোগ আসে। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো পণ্য বা সেবা নিয়ে কেউ প্রতারিত হলে তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন। এসব অভিযোগের কতটুকু সুরাহা হয়েছে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কোনো কর্মকর্তার। এর আগে ১৪ নভেম্বর ২০১৯ দৈনিক নতুন সময়ে ইভ্যালিতে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট! এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইভ্যালির সাইট থেকে যৌন উত্তেজক সকল ট্যাবলেট সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আর দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ৫২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত বিধি-নিষেধ অমান্য করে সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে-এমন কোনো কার্য করা হলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতায় সেবাগ্রহীতার অর্থ বা স্বাস্থ্যহানী ঘটানো হলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ভোক্তা অধিকারে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে ইভ্যালির পদক্ষেপ সম্পর্কে ওয়েবসাইটটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ রাসেল নতুন সময়কে বলেন দেশের আইনের প্রতি আমরা সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। একই সাথে আমরা শ্রদ্ধাশীল আমাদের গ্রাহকদের কাছেও। আজ ইভ্যালি দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ই- কমার্স ব্র্যান্ড। আমাদের এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে গ্রাহকদের জন্যই। কিছু গ্রাহক তাদের পণ্য কাঙ্ক্ষিত ভাবে পাচ্ছেন না। আমরা এই বিষয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। একই সাথে আমাদের দিক থেকে কি কি করলে গ্রাহকদের আরও ভাল সেবা দেওয়া যায় তার সবকিছু নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে মনে রাখতে হবে,মার্কেটপ্লেস হিসেবে ইভ্যালি তে প্রচুর অর্ডার পড়ে যা অনেক সময় সেলাররাও সঠিক সময়ে সরবরাহ করতে পারে না। দেশের প্রেক্ষাপটে ই- কমার্স বা ই- কমার্স ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ধারণার বয়স্ খুব বেশি না। আমি মনে করি, একটি ইকো সিস্টেম তৈরি করতে ইভ্যালি সহ এই খাতের সাথে যুক্ত অন্যান্য স্টেক হোল্ডাররা ও একই রকম আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। ই ভ্যালি একটি দেশীয় উদ্যোগ। ই- কমার্সের সাথে সাথে আমাদেরকে কিছু সময় দিতে হবে। পুরো ব্যবস্থাটি একবার দাড়িয়ে গেলে তা দেশের বৃহৎ স্বার্থই রক্ষা করবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
