|
গ্রাহক ভোগান্তির নাম ইভ্যালি (পর্ব-১)
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
গ্রাহক ভোগান্তির নাম ইভ্যালি (পর্ব-১) মনির মাহমুদ লিখেছেন, 'নবীনবরণ সাইক্লোনে লেনোভো মোবাইল অফার দিয়েছিলেন, স্টক নাই বলে সবারটা ক্যান্সেল করে দিলেন, এখন আপনাদের ওয়েবসাইটে স্টুডেন্ট বাজারে সেইম মোবাইল এভেইলেবল দেখাচ্ছে! এর নাম ইভ্যালি! এন্সার প্লিজ!' সৌমিত্র রায় 'আস্থা' নিয়ে বিদ্রূপই করলেন, 'দুই মাস পার হইছে আস্থার নাম দিয়ে ৬২ দিন চলছে।' মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন আরও এক কাঠি সরেস, 'আস্থা আছে বলেই ৩ মাসেও রিফান্ড এর টাকা আসে নি বিকাশে,,, এভাবেই এগিয়ে যান হ্যারেজমেন্ট করে!' ইভ্যালির অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ যেটাকে 'ফেস' বানিয়ে ইভ্যালি নিজেদের ক্যাম্পেইনগুলোর প্রচারণা চালায়, সেখানে কেবলই ইভ্যালির পক্ষের রিভিউ। অরুপ যেখানে কোনো সমস্যার, কোনো ইস্যুর কথা প্রকাশ করতে দেয়া হয় না। সেখানে কোনো নেগেটিভ রিভিউ প্রকাশ তো হয়ই না, গ্রাহকের কোনো রকমের কোনো সমস্যাও প্রকাশ হয় না৷ নেতিবাচক কিছু বললেই ব্যান! তেমনই এক ভুক্তভোগী অরুপ লিখেছেন, 'SIR PLEASE REMOVE THE BAN FROM ME IN EVALY OFFICIAL GROUP'। যে পোস্টের মন্তব্যগুলো আমরা প্রকাশ করলাম, সেই পোস্টেই এরও ৫০ গুণ কমেন্ট করেছে ভুক্তভোগীরা। কয়টি প্রকাশ করলে ইভ্যালির দৈন্যতা টের পাওয়া যাবে? এভাবেই প্রতিনিয়ত শত শত কমেন্ট পাওয়া যায় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে, এমনকি ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের পোস্টেও। মোহাম্মদ রাসেল যদি নিজের ওয়ালে 'গুড মর্নিং' লিখেও পোস্ট দেন, তবু শত শত ভুক্তভোগীদের মন্তব্যের ভিড় লেগে যায়। নিজেদের কষ্টের কথা প্রায় প্রতিদিন শেয়ার করেও মিলছে না কোন সমাধান। একটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কীভাবে গ্রাহকদের ব্যাপারে এতটা অমনোযোগী হতে পারে? কেবল পজিটিভ রিভিউ দেখিয়েই কি হাজার হাজার নেতিবাচক ফিডব্যাক আড়াল করা সম্ভব? ইভ্যালি এই ব্যর্থতা এড়াবে কি করে? এর আগে ১৪ নভেম্বর ২০১৯ দৈনিক নতুন সময়ে 'ইভ্যালিতে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট!' এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইভ্যালির সাইট থেকে যৌন উত্তেজক সকল ট্যাবলেট নামিয়ে ফেলেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ৫২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত বিধি-নিষেধ অমান্য করে সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে-এমন কোনো কার্য করা হলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এবং ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতায় সেবাগ্রহীতার অর্থ বা স্বাস্থ্যহানী ঘটানো হলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
