সেই নির্যাতিত আয়েশা ওষুধ পায় না পাপিয়ারা অর্থবিত্ত পদবি পায়!
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)
প্রকাশ: Saturday, 29 February, 2020, 11:03 PM
সেই নির্যাতিত আয়েশা ওষুধ পায় না পাপিয়ারা অর্থবিত্ত পদবি পায়!
আওয়ামী লীগের এগারো বছরের শাসনামলে পাপিয়ার মতোন লোভী চরিত্রহীনরা ক্ষমতাবান একাংশের আশ্রয় প্রশ্রয়ে জঘন্য অপরাধ করে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।আরেক দিকে বিএনপি জামায়াত শাসনামলে রাজপথে পুলিশ যাকে নির্যাতন করে পরনের কাপড় ছিঁড়ে অপমান করেছিলো সেই আয়েশার ভাগ্যে খাবার ও চিকিৎসা জুটেনা।পাপিয়াদের মতোন নষ্টদের জন্য সবার সহযোগিতা শেল্টার জুটলেও আয়েশার খবর রাখার সুযোগ দলের নেতা মন্ত্রী এমপিদের নেই! রাজনীতি কতো নিষ্ঠুর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেউ যেমন পাপিয়াদের অপরাধের কথা বলেননা, তেমনি আয়েশার জীবনের করুন অবস্থার বেদনার কাহিনীও জানান না।
দুঃসময়ে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ কাঁপিয়েছিল, তাদের অনেকের অবস্থাই ভয়াবহ করুণ। ক্ষমতার সরকারে দুঃসময়ের নির্যাতিত অনেক নেত্রী বা কর্মীর জায়গা হয়নি।
কারণ ক্ষমতায় থাকতে কোন মিছিল মিটিং হরতালের প্রয়োজন নেই, জেল জুলুম আর নিপীড়নের ভয় নেই। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর নিশ্চয়তায় সেজে গুঁজে এসি রুমে বসে কেবলই বুলি কপচানো, আনন্দ আর ধান্দা, বড় বড় পদ পদবী সহনিজেদের আখের গোছানো।
ধানমণ্ডি ৩ নাম্বারের পার্টি অফিস, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বঙ্গভবন থেকে গণভবন, নামী-দামী পাঁচ তারকা হোটেল আর নাম করা ক্লাবের বড় বড় রাজনৈতিক আড্ডা কিংবা আলোচনায় সর্বত্র কেবলই যুব মহিলা লীগের একটি মেকাপ মারা অংশ ও সুবিধাবাদী নায়িকার ভীড়, সুন্দরীদের মেলা । এই ভিড় ঠেলে দুঃসময়ের পোড় খাওয়া চেহারার সাধারণ নেত্রী বা কর্মীরা প্রবেশ করে সাধ্য কি ! ক্ষমতার সরকারে রূপ লাবণ্য আর গ্লেমারের যতটা কদর শান্ত আলুথালু মলিন চেহারাগুলো ততোটাই বিরক্তিকর, অপাংক্তেয় আর বেমানান।
বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নেতা নেত্রীরা নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত যে দুঃসময়ের সহযাত্রীদের খবর রাখার এতো সময় তাঁদের নেই ।ক’দিন আগে শুনলাম যুব মহিলালীগের ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ঝুমা প্রচণ্ড অর্থকষ্টে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে । ২০০৮ এর আগের আর এক নেত্রী আয়শা বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পেটোয়া বাহিনী পুলিশের হিংস্রতার শিকার হয়ে রাজপথে লাঞ্ছিত হয়েছিলো এই আয়শা, যে ঘটনা গোটা বাংলাদেশকে তখন আলোড়িত করেছিল। সেই আয়শাও আজ বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে । তাঁর পাশে দাঁড়ানোরও কেউ নেই।এই দেশে পাপিয়ারা বড় বড় পদ পায় আর আয়েশাদের মত ত্যাগী নেত্রীরা ওষুধ খেতে পারেনা অর্থের অভাবে।
এ কেমন রাজনীতি যেখানে স্বার্থের সন্ধানে নতুন যোগ দেওয়া ভুঁই ফোর হাইব্রিড কাউয়ারা সমাদৃত হয় আর দুর্দিনের সহযোদ্ধারা অবহেলায় দূরে পরে থাকে ।দুঃসময়ে যারা আন্দোলন, সংগ্রামে, শ্লোগানে, মিছিলে রাজপথ কাঁপিয়েছিল, তাদের অনেকের অবস্থাই ভয়াবহ করুণ। ক্ষমতার সরকারে দুঃসময়ের নির্যাতিত অনেক নেত্রী বা কর্মীর জায়গা হয়নি।
সেই সময়ে এক হরতালে পুলিশ কর্তৃক আয়শার বস্ত্র হরণের ছবি সবার হৃদয়কে আপ্লুত করে বেদনা জাগিয়েছিল। মানুষকে জোট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করেছিল। সুসময়ের কোকিলরা নয় দুঃসময়ের এই আয়শারাই আপনাদের আপন ।আজ আয়শার দুঃসময়ে মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে না পারলে আপনারা নিজের বিবেকের কাছে দায়ী হবেন একদিন ।আয়শার খোঁজ করুন, ওর সাহায্যে এগিয়ে আসুন।