ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
‘পেশাদার প্রেমিক’ আশরাফুলের ফাঁদে ২০ নারীর সর্বনাশ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 29 October, 2019, 5:06 PM

‘পেশাদার প্রেমিক’ আশরাফুলের ফাঁদে ২০ নারীর সর্বনাশ

‘পেশাদার প্রেমিক’ আশরাফুলের ফাঁদে ২০ নারীর সর্বনাশ

আশরাফুল মোল্যা (৩৮)। সুমন হাসান, সুমন মোল্যা, সুমন আর্মি নামেও পরিচিত তিনি। নিজেকে সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে প্রেম, এরপর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ব্লাকমেইল করাই তার পেশা।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে আশরাফুল স্বীকার করেছেন, প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত ২০ জন নারীর সঙ্গে তিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সেই ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে ওই নারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকেন।

এমন এক ঘটনায় যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অজ্ঞাত আসিমর নামে মামলা হয়। একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ‘পেশাদার প্রেমিক’ আশরাফুল মোল্লাকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার আশরাফুল মোল্যা নড়াইল সদর উপজেলার বোড়ামারা গ্রামের আকবর মোল্যার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বাঘারপাড়া থানার একটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আশরাফুল মোল্যাকে শনাক্ত করা হয়। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য ও সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন তিনি। এরপর সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমের কাছে টাকা দাবি করতেন।

এক ছাত্রীকে একই কায়দায় ধর্ষণের পর টাকা দাবি করেছিলেন আশরাফুল মোল্যা। গত ৩ অক্টোবর বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ঝিকরগাছার এক ব্যক্তি। তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে দাবি করা হয় এজাহারে। তবে অভিযুক্তের নাম-পরিচয় সেখানে উল্লেখ করেননি।

মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে ডিবি পুলিশ ভিকটিমের কাছ থেকে ওই যুবকের একটি মোবাইল নম্বর পান। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই আশরাফুল মোল্যাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ সময় তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর ক্যাপ, নেমপ্লেটযুক্ত জ্যাকেট, সোয়েটার, ১৩টি সিম কার্ড, ধর্ষণের ভিডিও ধারণকৃত একটি মেমোরিকার্ড ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪টি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আশরাফুল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, ২০১১ সাল থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন তিনি। সেই ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন। এই পর্যন্ত ২০ জন মেয়েকে একইভাবে ধর্ষণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় প্রতারণার মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ প্রমুখ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status