ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২০ জুন ২০২৬ ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
লন্ডনে কুলির কাজ করতেন ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 9 July, 2019, 7:00 PM

লন্ডনে কুলির কাজ করতেন ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

লন্ডনে কুলির কাজ করতেন ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তিনি। এ পরিচয় ছাপিয়ে তিনি এখন মানবতার বন্ধু হিসেবেই পরিচিত। মানুষের চারপাশের সমস্যা ও বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অনলাইন জগতে প্রতিনিয়ত ঝড় তুলছেন তিনি। কোন অসংগতি চোখে পড়লেই কখনও হাটুঁ পরিমাণ কাদায়, কখনও আবর্জনার স্তুপে দাঁড়িয়ে, কখনও বা চলতি পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে লাইভে আসেন এ ব্যারিস্টার। তার প্রতিটি লাইভ ভাইরাল হওয়ার কারণে টনক নড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ব্যারিস্টার সুমনের ফেসবুক লাইভের কারণে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে- এমন নজিরও সৃষ্টি হয়েছে অনেক।





আইনজীবী হিসেবে জনস্বার্থে বিভিন্ন মামলায় আইনি লড়াই করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার রিটের কারণেই উচ্চ আদালত রাস্তার মাঝখানের সব বৈদ্যুতিক খুটি অপসারণ ও বালিশকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ব্যারিস্টার সুমনের ভুমিকার কারণে নুসরাত হত্যার ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেমকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে। আবার নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিজের টাকা খরচ করে ২৪টি কাঠের সেতু তৈরি করে তরুণদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। রাইজিংবিডি

ব্যারিস্টার সুমন এখন ফেসবুক তথা অলনাইন জগতে জনপ্রিয় নাম, মানুষের আস্থার ঠিকানা। তবে তার এ অবস্থান সৃষ্টি, জনপ্রিয়তা একদিনে আসেনি। পাড়ি দিতে হয়েছে বহু পথ। সাধারণ পরিবারের সন্তান সুমন ব্যারিস্টারি পড়ার টাকা যোগাতে লন্ডনে কুলির কাজও করেছেন।

সুমনের ব্যারিস্টারি পড়ার আগের দিনগুলো, জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও আনন্দের দিনগুলোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস…………….

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা সদরের পাশে পীরবাজার নামক গ্রামে আমার জন্ম। আমার বাবা সাধারণ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মা গৃহিনী। আমাদের ধান ভাঙানোর মিল ছিল, তারপর ট্রাক্টর ছিল। সাধারণ একজন ব্যবসায়ীর সন্তান আমি বলতে পারেন। বাবা-মায়ের ৬ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট আমি। ছোট বেলা কেটেছে চুনারুঘাটেই। স্থানীয় কেজি স্কুলে আমার শিক্ষার হাতে খড়ি। তারপর ডিসিপি হাইস্কুলে ভর্তি। এখান থেকেই এস এস সি পাশ করি। তারপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। এইচ এস সি পাশ করি ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং এ ভর্তি হই। বিবিএ, এমবিএ পাশ করি।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর কোন চাকরিতে ঢুকে যেতে পারতাম। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমি স্বাধীনচেতা। বিবিএ, এমবিএ পড়ার পরও আমার মনে হয়েছে দেশের জন্য কাজ করতে গেলে স্বাধীন একটা পেশা প্রয়োজন। আইন পড়ার মধ্যে আমি সেই স্বাধীনতা খুঁজে পাই। এছাড়া চিন্তা করে দেখলাম ব্যারিস্টার হলে বাংলাদেশে এর গ্রহণযোগ্যতা একটু বেশি। এদেশে ব্যারিস্টারদেরকে এখনও পজেটিভলি নেওয়া হয়। এজন্য মনে মনে ভাবলাম, চেষ্টা করে দেখি ব্যারিস্টার হতে পারি কি না। আল্লাহর রহমতে আমি শেষ পর্যন্ত ব্যারিস্টার হয়ে গেলাম।

ইংল্যান্ডের লাইফটা ছিল আমার কঠিনতম। ইংল্যান্ডে আমার যে আত্মীয় স্বজন, আমি সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর তারা কেউ আমার পাশে ছিল না। সিলেটি হিসেবে আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল তা পাইনি। যার কারণে বাস্তবতার মুখোমুখি হই। আমি একজন ট্রলিম্যান হিসেবে কাজ শুরু করি। আমাদের দেশে যাদেরকে আমরা কুলি বলি। সেই কুলির কাজও করেছি। বিমানবন্দরে যখন ভিআইপিরা ট্রলি ফেলে রেখে যেতেন, ট্রলিগুলো নিয়ে এসে এক জায়গায় রাখতাম। আমি কুলির কাজ করেছি- এটা সবসময় স্বীকার করি।

আমার কাছে মনে হয়, আমি যদি চুরি না করি, কারো হক নষ্ট না করি তাহলে কোন কাজই ছোট না। আবার ড্রাইভারি করতাম। এসব কাজ করে কিছু টাকা জমাই। ২০০৮ সালে বার অ্যাট ল করতে শুরু করি।

আরেকটি দু:খের কথা, বার অ্যাট ল শুরু করার ১৭ দিনের মাথায় আমার বাবা মারা যান বাংলাদেশে। কিন্তু তখন আমার পকেটে কোন টাকাই ছিল না যে, বাবার লাশ দেখতে আসবো। টাকার অভাবে বাবার জানাজায় আসতে পারিনি, বাবার লাশ দাফন করতে পারিনি। শেষবারের মত বাবার মুখটা দেখতে পারিনি শুধু টাকার অভাবে। সেই কষ্টের কথা ভুলতে পারি না। 


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status