|
পাঁচ টাকায় ঈদের পোশাক, সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসির ঝিলিক
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
|
পাঁচ টাকায় ঈদের পোশাক, সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসির ঝিলিক লিমার বাবা দিনমজুর, আরাফাতের বাবা হোটেলের কর্মচারী। স্থানীয় এক বড় ভাই তাদের জানান, শুক্রবার সকালে পাঁচ টাকায় শিশুদের পোশাক কিনতে পাওয়া যাবে। সেই খবরে সকাল ১০টার মধ্যে তারা পৌঁছায় চারুপীঠ ক্যাম্পাসে (শহরের পৌর উদ্যানে)। এরপর যখন বিক্রি শুরু হয়; সবার আগে এই দুজন নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নগদ পাঁচ টাকা করে জামা ও পাঞ্জাবি কিনে। আগে আসলে আগে পাবে ভিত্তিতে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কেনাবেচা দুপুরেই শেষ হয়ে যায়। এ সময়ের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ বয়স্করা ৪শ নতুন পোশাক কিনে। পোশাক বিক্রি থেকে প্রাপ্ত টাকা পরে সেখানে আগত দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টন করা হয়। খবর পেয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নতুন পোশাক কিনতে এসেছেন সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম। ছেলে শাহজাহান আর মেয়ে লামিয়া। দুজনের জন্যে পাঞ্জাবি আর কামিজ কেনেন তিনি। নাসিমা বেগম বলেন, এখনো ঈদের বাজার করিনি। স্বামী দিনমজুর, আয় রোজগার তেমন না। পাঁচ টাকায় বাচ্চাদের কাপড় বিক্রির সংবাদ শুনে এসেছি। ভেবেছিলাম কী জানি কী দেবে! এখন দেখছি, খুবই সুন্দর জামাকাপড় বিক্রি করা হচ্ছে। পাঁচ টাকায় এতো সুন্দর জামাকাপড় পাওয়া যাবে ভাবতেই পারিনি। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে মাত্র পাঁচ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক দেয়ার উদ্যোগ নেয় ফোঁড় নামে যশোরের একটি ফ্যাশন হাউস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের দোকানের পণ্যই বিক্রি করেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে। বিশেষ করে দুই বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের ফ্রক, সালোয়ার কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি ও পায়জামা ও বড়দের জন্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করা হয়। এসব পোশাক আটশ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে ফোঁড়ের শোরুমে। দামি এসব পোশাক নামমাত্র মূল্যে কিনতে পেরে খুশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অভিভাবকরা। ফোঁড়ের এ আয়োজন সম্পর্কে যশোরের স্থানীয় একটি দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুল আলম বলেন, আমার দেখা অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি উদ্যোগ। আমার জানামতে, যশোরে এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম। নিজেরা পছন্দ করে শিশুরা কাউন্টারে নিজ হাতে টাকা দিয়ে কাপড় কিনছে। এমন উদ্যোগে শিশুরা হীনমন্যতায় ভুগবে না। বরং তাদের ভেতরে একটা প্রশান্তি কাজ করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসবে সবার আনন্দের জন্যে যারা সহযোগিতা করেন, তাদের এই ধরনের উদ্যোগে শামিল হতে তিনি অনুরোধ করেন। যাতে করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা উপকৃত হয়। ফোঁড় ফ্যাশন হাউসের সত্ত্বাধিকারী চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, শিশুরা যাতে এই পোশাকগুলো দান মনে না করে তার জন্য পাঁচ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছি। এতে করে তাদের অংশীদারিত্ব থেকে যায়; তারা কোনো প্রকার হীনমন্যতায় ভুগবে না। সাধ্য অনুযায়ী উৎসবটিকে কিছু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার এই প্রয়াসে স্বস্তি রয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
