১০ টাকা বেতনে ৫ বছর ধরে কোরআন শেখাচ্ছেন বিধবা নুরজাহান
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 7 May, 2019, 7:02 AM
১০ টাকা বেতনে ৫ বছর ধরে কোরআন শেখাচ্ছেন বিধবা নুরজাহান
বেতন তার যৎসামান্য। কিন্তু মনেপ্রাণে উদারতায় যেন আকাশছোঁয়া। আর তাইতো বছরের পর বছর ধরে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মক্তব্যে কোরানের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। বলা হচ্ছে ভোলার তজুমদ্দিনে মাসিক জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা বেতনে কোরান শিক্ষা দেয়া এক বিধবা নারীর কথা। ওই শিক্ষিকার নাম নুরজাহান বেগম। যিনি গত ৫ বছর ধরে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে নিয়মিত এই কোরান শিক্ষা দিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মক্তবের ঘরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে আছে। স্যাঁতস্যাতে অবস্থায় আছে কোরআন শরিফ ও আরবি কিতাবসহ বিছানাপত্রগুলোও।
এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লা গ্রামের লেদু করাতী বাড়ির দরজায় মরহুম আসলাম মুন্সী ধর্মীয় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে শতাধিক শিশু নিয়ে মক্তবটি চালু করেন। তবে বর্তমানে আর্থিক সংকট ও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় শিক্ষাকেন্দ্রটি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। বেতন না দেয়ায় ধর্মীয় শিক্ষমও নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় গত ৫ বছর ধরে মক্তবটিতে শিশুদের কোরান শিক্ষা দিয়ে আসছেন বিধবা নুরজাহান বেগম।
জানা গেছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসে ১০ টাকা করে বেতন দেয়। কেউ কেউ না দিয়েই মক্তবে পড়ে। তাতেও কখনও কোনও আপত্তি করেন না নুরজাহান। তিনি চান, কোরানের আলোয় শিশুরা আলোকিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হোক।
শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে স্থানীয় ও সরকারিভাবে মক্তবটিতে অনুদান প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
একই চাওয়া শিক্ষিকা নুরজাহান বেগমেরও। তিনি বলেন, ‘ধরাবাঁধা নেই। যে যখন যা দেয় তাই নেই। আমি চাই ধর্মীয় শিক্ষা চালু রেখে শিশুদের আদর্শবান করে গড়ে তুলতে। তাদের সৎ পথের সন্ধান দিতে। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা তাতে মক্তবটি সচল করতে সরকারি ও স্থানীয় অনুদান খুবই প্রয়োজন।’