ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ছাত্রলীগ নেতাদের অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 6 May, 2019, 7:51 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 6 May, 2019, 8:05 PM

ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত নেতাদের সম্পদ এবং জীবনযাপন দেখে অবাক হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অনেক ছাত্রলীগ নেতা এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনেকে আবার বিয়ে করেও তথ্য গোপন করে রেখেছেন। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এরকম তথ্য উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য যে, গতবছর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নির্বাচিত করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু তারপরও গত এক বছরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। জানা গেছে যে, ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধের কারণেই পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পূর্নাঙ্গ কমিটির খসড়া চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকসহ সাবেক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে ২৭১ সদস্যের খসড়া কমিটি চূড়ান্ত করেন। এটি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি লন্ডন যাওয়ার আগে এই তালিকাটি তিনটি গোয়ান্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।



গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবশ্য তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতা এবং আওয়ামী লীগ পরিবারে তারা বেড়ে উঠেছেন। বলা হয়েছে যে, অধিকাংশই নিয়মিত মেধাবী ছাত্র এবং আদর্শিকভাবেই ছাত্রলীগ করেন। অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনোরকম অভিযোগ নাই। এবং তারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনোরকম সম্পর্কযুক্ত নয়। কিন্তু ৩৭ থেকে ৫০ জনের নামের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। যে বিষয়গুলোতে তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা। এই তালিকায় অন্তত ২২ জন আছেন যারা ছাত্রত্ব রেখেও ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তারা ব্যবসা করছেন, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। বিভিন্ন টেন্ডার এবং সরকারের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে তাদের হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান। এছাড়া দেখা যাচ্ছে যে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে যে তারা বিবাহিত হয়েও বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন করেছেন, প্রকাশ্যে তারা বলেন যে তারা বিবাহিত নয়, স্ত্রীকে তারা লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছে। তবে তাদের সন্তানাদি রয়েছে কিনা, সে তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা দিতে পারেনি।

এর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, যৌন হয়রানিসহ নানারকম অভিযোগ রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার কাছে হস্তান্তর করবে। এরপরেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। উল্লেখ্য যে, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি হলেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান। কাজেই যেকোনো বিষয়ে তার অনুমোদন ছাড়া ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status