খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে কিছু মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে: রিজভী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 18 April, 2019, 4:22 PM
খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে কিছু মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সূত্রবিহীন একটি খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এমনকি তারা তারিখও বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো- বিএনপির কোনো সূত্র এমন কিছুই জানে না।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার খবর নিছক প্রোপাগান্ডা। সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল)সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ প্রোপাগান্ডাগুলোর সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ, কিন্তু তা নিয়ে মিডিয়াগুলো নীরব। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সফল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। বর্তমানে হাত-পা নাড়াতে সক্ষম নন তিনি। আর্থ্রাইটিসের ব্যাথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তার প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যান। তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে গতকালও চিকিৎসকরা জানান । এ অবস্থায় পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এই সরকার তার জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদূরপ্রসারী স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তা নিয়ে মিডিয়াগুলো নীরব। মিডিয়া এ ব্যপারে তেমন কোন ভূমিকা রাখছেনা।
রিজভী জানান, আইনজীবীরা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে যে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তা সহজে জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তির দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বলব- দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফরমুলা বন্ধ করুন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার মাইনাস-টু ফরমুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আপোষহীন কঠোর ভূমিকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তারা সফল হলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না। খালেদা জিয়ার জামিনে আর বাধা দিবেন না। আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের উপর থেকে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন। আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণ ক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন,আপনাদের প্রতি দেশের জনগণ এমনিতেই চরম ক্ষিপ্ত। চক্রান্ত করলে জনগণ উপযুক্ত জবাব দেবে। আমি আবারও দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই-অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবেযান
সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ এমন মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের লাশের ওপর দেশ চালাচ্ছেন। তাই কোনো কিছুই এখন যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশে চলছে এক চরম নৈরাজ্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত খবরের কাগজগুলোতে পাতা ভরে অধিক পরিমান খুন-ধর্ষণ-পাশবিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় দেখা যাচ্ছে। দেশ যেন ধর্ষণের উৎসবে মেতে উঠেছে। এ দেশের নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু, কিশোরী কিংবা বয়স্ক নারী আজ আর কেউ নিরাপদ বোধ করছেন না। প্রতিদিনই শিশু, কিশোরী ও বয়স্ক নারীদের বর্বরতার শিকার হতে হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, পাশবিক নির্যাতনের পর তাদের হত্যাও করা হচ্ছে। গণপরিবহন থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস কিংবা বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট সর্বত্রই নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রিজভী বলেন, যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সেখানে দিনের পর দিন এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের সহযোগিতায় মাদরাসার অধ্যক্ষ ওলামা লীগ নেতা সিরাজ উদ দৌলা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন দিনের পর দিন। তার নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের জ্ঞাতসারে পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের টাকায় ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদৎ হোসেন শামীম ও ছাত্রলীগ নেতা নুরুদ্দিনের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারি দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, এরা কতটা বর্বর এবং শক্তিশালী যে, খুনির পক্ষে প্রকাশ্যে মিছিল করে হুমকি দেয়! পত্র পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম লোকজন নিয়ে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে মামলা তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের পরিবারকে ডেকে একটি ব্যাংকের নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিলেন। জনগনের ধারণা, এই নিয়োগপত্র হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁচানোর সনদ। যার দ্বারা পরিবারটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মামলার গতি বদল করা যায়।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ ৯ দিন হলো নুসরাত মারা গেছেন। অথচ এই দুষ্কর্মের সহযোগিতাকারী সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া তেমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন মোয়াজ্জেম। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও তার বিরূদ্ধে কোনো বিচার হচ্ছে না। অন্যদিকে যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে সরকার পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে।