অবরোধকারী পাঁচ দফা দাবি,২২ অক্টোবরের ঘটনার বিচার ও মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান
ভুবন ত্রিপুরা,সাজেক
প্রকাশ: Saturday, 24 October, 2026, 8:27 PM
অবরোধকারী পাঁচ দফা দাবি,২২ অক্টোবরের ঘটনার বিচার ও মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ২২ অক্টোবরের সংঘর্ষের ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, মামলা প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
*পাঁচ দফা দাবি*
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জানানো পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—২২ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি, ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
দ্বিতীয় দাবিতে উজো বাজারের স্থানীয় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মারধরে আহত হয়েছেন বলে যাঁদের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চতুর্থ দাবিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং কথিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
পঞ্চম দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করা এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি না চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
উজো বাজার ঘিরে রাখার অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবারগুলোর স্থানত্যাগ
বিবৃতিতে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতারা অভিযোগ করেন, উজো বাজার এলাকা দিন-রাত ঘিরে রাখা হয়েছে এবং বাজারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির ভয়ে শতাধিক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এ ছাড়া শনিবার সকালে ডিপু পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝরণা চাকমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধের সময় গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠন দুটির নেতারা।
তাছাড়া তাদের উত্থাপিত দাবি গুলো দ্রুত বাস্তবায়নে জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাজেকবাসীর ন্যায়সংগত আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।
সাজেকের চলমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।