|
বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে ৩০ বছর বয়সী নিধির সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সিংগ্রৌলির ভুসা মোড় এলাকার বাড়িতে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনা নিয়ে এখন তদন্ত করছে পুলিশ। বিশেষ করে এক বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর শেষ ফোনালাপ, পরিবারের করা অভিযোগ এবং মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেলে চাকরির সময় প্রকৌশলীর সঙ্গে পরিচয় নিধি সিংগ্রৌলির মরওয়া এলাকার জিএস গ্র্যান্ড হোটেলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে প্রায়ই কাজের সূত্রে থাকতেন এক প্রকৌশলী। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রকৌশলীর নাম সোনু সিং। তিনি একটি এনসিএল–সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। নিধির মা হেমলতা তিওয়ারি পুলিশকে জানিয়েছেন, হোটেলে কাজের সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে, ওই প্রকৌশলী বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। এরপর নিধিকে তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য বলা হয়েছিল। তবে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে মায়ের দাবি। তাঁর অভিযোগ, ওই প্রকৌশলী নিধির ওপর সব সময় নজর রাখতেন। তিনি কোথায় আছেন, কার সঙ্গে আছেন—এসব জানতে চাইতেন। পরিবারের এসব অভিযোগ অবশ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। পুলিশও প্রকৌশলীর ভূমিকা তদন্ত করে দেখছে। মৃত্যুর আগের রাতে শেষ ফোনালাপ নিধির মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাই এখন তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় নিচতলায় পূজা করেছিলেন নিধি। এরপর ওপরের তলায় নিজের ঘরে যান। তাঁর কানে তখন ব্লুটুথ ইয়ারফোন ছিল। রাত প্রায় আটটার দিকে ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে নিধির ফোনে কথা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। ওই ফোনালাপে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল বলে মায়ের বক্তব্য। তবে শেষ ফোনালাপে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। কলের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফোনালাপের পর নিধি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঘরের কাছে যান। দরজা খুলতে চাননি নিধি রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু নিধি দরজা খোলেননি। পরিবারের সদস্যদের চলে যেতে বলেন। খাবারও নিতে চাননি বলে জানিয়েছে পরিবার। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একা থাকতে দেন। তাঁরা আশা করেছিলেন, সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু পরদিন সকালেও ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে নিধিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে পুলিশের তদন্ত নিধির মৃত্যুর পর ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পরিবারের অভিযোগ, দুজনের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তা বন্ধ হয়নি। নিধির মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তির মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে নিধির সম্পর্ক ও মৃত্যুর আগে তাঁদের কথোপকথনের বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিধির মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্তাধীন। শেষ পোস্টে ‘নিজেকে ভালোবাসার’ কথা মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন নিধি। সেখানে নিজের ভেতরের শূন্যতা ও নিজেকে ভালোবাসার কথা লিখেছিলেন। পোস্টের একটি অংশে ছিল, ‘এই অসম্পূর্ণ হৃদয়কে কেউ পূর্ণ করতে পারেনি, তাই আমি নিজেই তা পূর্ণ করে নিয়েছি।’ এরপর নিজেকে ভালোবাসার বার্তা দেন তিনি। এই পোস্টও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে পোস্টটির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো যোগ আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিবারের জন্য বাড়ি বানাচ্ছিলেন পরিবারের বড় মেয়ে ছিলেন নিধি। তাঁর মা জানিয়েছেন, পরিবারের দায়িত্বও অনেকটাই সামলাতেন তিনি। সিংগ্রৌলির বাইধান এলাকায় একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। চাকরির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন নিধি। ফেসবুকে প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার ও ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লাখ ১২ হাজার অনুসারী ছিল তাঁর। স্থানীয় অনুষ্ঠান ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালে ‘মিস প্রিটি ইন্ডিয়া’ খেতাব জেতেন। অভিনয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন ছিল তাঁর। কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ নিধির মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শেষ কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটেছিল, তা জানতে তাঁর কল রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, শেষ ফোনালাপে কী কথা হয়েছিল এবং পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে এসব তথ্যের মিল আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। সিংগ্রৌলির পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের করা অভিযোগগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। তাই প্রকৌশলীর সঙ্গে নিধির সম্পর্ক এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্যকার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে লাশ হল নাঙ্গলকোটের কিশোর
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় দিনের আলোয় প্রবাসী সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
১০ বছর পর ঘরের বাইরে ঝিনাইগাতীর ঝমেলা,সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন জেলা প্রশাসক
বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে
