|
শিশুটি তার জন্য এনেছিল পানি, তিনি করলেন ধর্ষণের পর হত্যা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শিশুটি তার জন্য এনেছিল পানি, তিনি করলেন ধর্ষণের পর হত্যা শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত শিশুটি উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। শনিবার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা। মামলায় জাহিদুল ইসলামকে (২০) আসামি করা হয়েছে। মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা প্রবাসী। তার মা শুক্রবার সকালে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জেলা সদরের চিকিৎসকের কাছে যান। শিশুটি বাড়িতে সমবয়সিদের সঙ্গে খেলা করছিল। দুপুরে শিশুটিকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলেন জাহিদুল। তখন শিশুটি কলস ভরে জাহিদুলকে পানি এনে দেয়। এ সময় খালি ঘরে সুযোগ বুঝে জাহিদুল শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বালিশচাপা এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মা বাড়িতে এসে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জাহিদুলের ঘর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সাধারণত আমি একাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করি। কিন্তু যেহেতু অভিযোগ ছিল, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেজন্য ময়নাতদন্ত করার সময় হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কামরুন্নারও ছিলেন আমার সঙ্গে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক কামরুন্নাহার। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর দুটি কারণ জানা গেছে। একটি হচ্ছে, তাকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আরেকটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশু হওয়ায় ধর্ষণের ফলে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার বিকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে একটি সংগঠন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি হয়। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, বিকালে জাহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
