|
হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের
নাজমুল হক শ্যামল, জাতিসংঘ সদর দপ্তর নিউইয়র্ক থেকে
|
![]() হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের বুধবার নিউ ইয়র্কে নিউ ইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। ‘স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন। শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টি বড় ধরনের বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা। ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর মধ্যে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না ওয়াশিংটন। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কে নেবে এ প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কোনো একটি দেশকে বেছে নিতে হবে—এমন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেই। বরং দেশগুলোকে বিকল্প অংশীদার দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায় ওয়াশিংটন। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারবেন না। তবে চলতি সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল বলে জানান তিনি।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
