|
কিশোর-কিশোরী সুরক্ষায় এক টেবিলে সরকার, এনজিও ও যুব সংগঠন
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কিশোর-কিশোরী সুরক্ষায় এক টেবিলে সরকার, এনজিও ও যুব সংগঠন সভার লক্ষ্য ছিল কক্সবাজারে যৌন নিপীড়ন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য সুরক্ষাসেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করা। কক্সবাজারে কোন প্রতিষ্ঠান কোন সেবা দিয়ে থাকে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন এই সভায় অংশগ্রহণকারীরা। ফলে সংকটে থাকা কোনো কিশোর-কিশোরীকে তারাই এখন সরাসরি সঠিক প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় বা আইনি সহায়তা, যা-ই প্রয়োজন হোক না কেন, যত্রতত্র না ঘুরে সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর বিগত বছরের একটি সার্ভিস ম্যাপিং কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয় এই সভায়। এতে উঠে আসে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা (পিএসইএ) এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) শিকার ব্যক্তিদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন সহায়তায় নানা ঘাটতির চিত্র। এর ভিত্তিতে আজকের সভায় অংশগ্রহণকারীরা রেফারেল ব্যবস্থা আরও সহজ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ গুরুত্ব পায় কক্সবাজারে সক্রিয় ভিকটিম সাপোর্ট কল সেন্টারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করার বিষয়টি। কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন বলেন, “বৈষম্য দূরীকরণে পুরুষ ও তরুণদের সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। সমাজসেবা বিভাগের আওতাধীন ৫৪টি সেবার বাইরে কোনো সেবার প্রয়োজন হলে সেবাপ্রার্থীকে যথাযথ প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানকারীর কাছে কার্যকরভাবে রেফার করতে হবে। কোনো সেবাপ্রার্থীকে উপেক্ষা, এড়িয়ে যাওয়া বা অসহায় অবস্থায় রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই।” সভার আলোচনা সাজানো হয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি) কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে স্বাস্থ্য, মনোসামাজিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা, এই চার ক্ষেত্রকে আনা হয় একসূত্রে। আলোচনায় স্থান পায় অ্যাকাউন্টেবিলিটি টু অ্যাফেক্টেড পপুলেশনস (এএপি) নীতিও, যার ফলে কিশোর-কিশোরী ও তরুণেরা নিজেদের জন্য তৈরি সেবা ব্যবস্থা নিয়ে মতামত দিতে পারবে এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, জেন্ডার ও বৈষম্যের বাস্তবতা বুঝে কাজ করতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও সক্ষমতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব সেবা হতে হবে শিশু-বান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য।” সভা শেষে নিজ নিজ অঙ্গীকার জানান সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা। আগামী ১২ মাসে কক্সবাজারে যুববান্ধব পিএসইএ ও জিবিভি সহায়তা শক্তিশালী করতে তারা কী কী পদক্ষেপ নেবেন তা জানান। এসব অঙ্গীকারের অগ্রগতি তদারকির জন্য নিয়োগ করা হয়েছে একজন ফোকাল পয়েন্টও। সভা আয়োজনে অনুসরণ করা হয় জাগো ও ইউনিসেফের পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড (ইএসএস)। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভেন্যু ও যাতায়াত ব্যবস্থা রাখা হয় সহজগম্য, আর আপ্যায়নে সীমিত রাখা হয় একবার-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
