ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
সরকারি বস্তায় ১০২ বস্তা চাল,মালিকানায় ধোঁয়াশা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 5 September, 2026, 12:18 PM

সরকারি বস্তায় ১০২ বস্তা চাল,মালিকানায় ধোঁয়াশা

সরকারি বস্তায় ১০২ বস্তা চাল,মালিকানায় ধোঁয়াশা

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নে সরকারি বস্তায় থাকা ১০২ বস্তা চাল একটি গাড়িসহ আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল কি না, সরকারি চাল হয়ে থাকলে তা কীভাবে জমা বা বিক্রির পর্যায়ে গেল এবং এসব চালের প্রকৃত মালিক কে—এমন নানা প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। তবে ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে চালের মালিকানা নিয়ে তৈরি হয়েছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। 

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রথমে আটক চালের মালিক হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হকের নাম উঠে আসে। তবে আনোয়ারুল হক তা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, চালগুলো তাঁর নয়; তাঁর ভাতিজা আকমল হোসেনের। তিনি জানান, আকমল এর দোকান আর আমার গোডাউন পাশাপাশি, তাই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের কাছ থেকে চাল কিনে আকমল তার দোকানে জমা করেছিলেন। পরে আকমলের অনুরোধে তিনি চালগুলো অন্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার রাতে রাতোর ইউনিয়নের একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের গোডাউনের সামনে একটি গাড়িতে বস্তাভর্তি চাল তোলা হচ্ছিল। বস্তাগুলো সরকারি হওয়ায় এবং তাতে সরকারি লোগো থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন গাড়িটি থামিয়ে চালগুলো আটক করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল ও গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, রাতে আনোয়ারুল হকের গোডাউনের সামনে একটি গাড়িতে চাল তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গাড়িটি থামান। পরে চালসহ গাড়িটি স্থানীয় একটি ক্লাবে নেওয়া হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় তাঁরা জানতে পারেন, চালগুলো নেকমরদ এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। তখন প্রাথমিকভাবে চালের মালিক হিসেবে ডিলার আনোয়ারুল হকের নাম তাঁদের কাছে আসে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ওই রাতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘটনাস্থলে ডেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তিনি চালগুলো আনোয়ারুল হকের বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০২ বস্তা চাল ও বহনকারী গাড়িটি জব্দ করেন।

আটক চালের মালিকানা সম্পর্কে আনোয়ারুল হকের ভাতিজা আকমল হোসেন দাবি করেন, তিনি গত মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল পাওয়া কার্ডধারীদের কাছ থেকে এসব চাল কিনেছেন।

আকমল হোসেন বলেন, “অনেক কার্ডধারী চাল নিতে বা খেতে চান না। তাঁরা চাল বিক্রি করে দেন। তাঁদের কাছ থেকে কিছু লাভের আশায় চালগুলো কিনে আমার দোকানে জমা করেছিলাম। পরে চাচার মাধ্যমে অন্য ব্যবসায়ীর কাছে চালগুলো বিক্রি করা হয়।”

নেকমরদ এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আটক চালগুলোর মালিক আনোয়ারুল হক নন, তাঁর ভাতিজা আকমল হোসেন। ঘটনার রাতে আকমলের নাম না জানায় তিনি চালগুলো আনোয়ারুল হকের বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর। আনোয়ারুল হকের মাধ্যমে তিনি চালগুলো কিনেছিলেন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন,ডিলার আনোয়ারুল অনেক দিন থেকেই সততার সাথে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হিসেবে কাজ করে আসছেন।এর কোনো খারাপ রিপোর্ট আমরা আগে পাইনি।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আনোয়ারুল হক বলেন, “ওই চাল আমার নয়। আমার ভাতিজা আকমল চালগুলো কিনে জমা করেছিল। তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সে আমাকে চালগুলো বিক্রি করে দিতে বলে। আমি শুধু তার হয়ে চালগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন,আমি সরকারি চাল বাইরে পাচার করিনি। এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। " উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে দেওয়া ৫৬১ বস্তা চাল আমার গোডাউনে রয়েছে।” আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। 

সরকারি বস্তায় থাকা ১০২ বস্তা চাল আটকের ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার সরকার বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, চালের প্রকৃত মালিককে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, চাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং এ মামলা তদন্তধীন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status