ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা
‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 24 August, 2026, 4:06 PM

‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’

‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’

‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।’ বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডে হবু স্ত্রীকে হারিয়ে এমনই আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অদিত কর। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে স্বজন ও পরিচিতজনদের।

রবিবার ( ২৩ আগস্ট) রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আগামী ও অদিতের একটি ছবি দিয়ে তার ওই বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে অদিত কর লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো।’ 
 
অদিত লেখেন, ‘এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—“আমরা তো কখনও কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।” চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

বিয়ের তারিখ আগে থেকেই চূড়ান্ত হয়েছিল আগামী ও অদিতের। দুই পরিবারে চলছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। কিন্তু বিয়ের আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেলো আগামী চক্রবর্তীর জীবন। একই ঘটনায় তার বাবা, মা ও ভাইও প্রাণ হারিয়েছেন।

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার ভোরে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনায়। গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। শিগগিরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তারিখ চূড়ান্তও করা হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আগামী চক্রবর্তী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে মারা গেলেন।

অদিতের এক বন্ধু জানিয়েছেন, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথাও হচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনায় অদিত হতবাক। সেই বন্ধু বলেছেন, ‘‘অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড’, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো বুঝতেছি না। কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন হবু স্ত্রী মারা গেলেন।’’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status