ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
নতুন সময় সংবাদ প্রকাশের পর জহুরার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস প্রশাসনের
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: Monday, 24 August, 2026, 11:59 AM

নতুন সময় সংবাদ প্রকাশের পর জহুরার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস প্রশাসনের

নতুন সময় সংবাদ প্রকাশের পর জহুরার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস প্রশাসনের

জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনিতে অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক ‘নতুন সময়’-এ সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (২২ আগস্ট) জহুরা বেগমের দুর্দশা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাঁকে সহযোগিতা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকায় একটি জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনিতে বর্তমানে দিন কাটছে জহুরার। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসুস্থ এই বৃদ্ধার স্বামী, ছেলে-মেয়ে কেউ জীবিত নেই। স্থায়ী ঘরবাড়ি কিংবা দেখভালের মতো আপনজন না থাকায় শেষ বয়সে এসে যাত্রীছাউনিই হয়ে উঠেছে তাঁর আশ্রয়স্থল।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ জহুরা কখনো দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে, কখনো অন্যের আশ্রয়ে থেকেছেন। বর্তমানে থাকার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই যাত্রীছাউনিতে অবস্থান করছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনির ভেতরে পানি পড়ে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেই অসুস্থ শরীর নিয়ে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এই মহিলার আপনজন কেউ বেঁচে না থাকায় আজ তাঁকে যাত্রীছাউনিতে থাকতে হচ্ছে। এ ধরনের মানবিক কাজে অসহায় মানুষের পাশে নিজেকে রাখতে পারলে ভালো লাগে। তাঁর জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, এমন একজন অসহায় মানুষের জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরায় জাতীয় দৈনিক নতুন সময়কে ধন্যবাদ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খুব শিগগিরই তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সালমান  বলেন, জহুরা বেগমের কষ্ট আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। অসুস্থ একজন বৃদ্ধ মানুষ এভাবে যাত্রীছাউনিতে থাকবেন—এটা সত্যিই কষ্টের। প্রশাসন এগিয়ে এলে তাঁর অন্তত শেষ বয়সটা নিরাপদে কাটবে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলে যাত্রীছাউনির ভেতর পানি পড়ে। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তিনি নিজের মতো করে কোনো ব্যবস্থা করতেও পারেন না। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে, এটা আমাদের জন্য স্বস্তির খবর।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়—জহুরা বেগমকে একটি নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি । জীবনের শেষ সময়টুকু যেন তাঁকে আর জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনিতে কাটাতে না হয়, এখন সেটিই তাঁদের একমাত্র দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status