গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আতাউর রহমান আতা মিয়াকে (৬০) হত্যার পর ছেলের মৃত্যুর শোকে তার মা জোহরা খাতুনের (৭৫) মৃত্যুর ঘটনায় জোড়া মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত।
পিবিআই জানায়, চলতি বছরের ২০ আগস্ট বিকেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন চালক আতাউর রহমান আতা মিয়া। ওইদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ছিনতাইকারীরা তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে শোকাহত হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান আতাউরের বৃদ্ধা মা জোহরা খাতুন। এতে একটি পরিবারের পরপর দুই সদস্যের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৪), একই থানার মির্জানগর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে নজরুল হাসান (২৪) এবং নরসিংদী জেলার চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কিবরিয়া (৪২)।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশাটি মাত্র ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। এছাড়া বিক্রির টাকা থেকে পাওয়া ২২ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আতাউরকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, নৃশংস এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।