পঞ্চগড়ে ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Sunday, 23 August, 2026, 8:35 PM
পঞ্চগড়ে ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ
সীমান্ত এলাকার বেকার ও শিক্ষিত যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পঞ্চগড়ে ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি)
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি)-এর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে সীমান্ত এলাকার প্রায় ৩০ জন শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের ০১ মাস ব্যাপী ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হবে।
১৮ বিজিবি জানায় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ইলেকট্রিক হাউজ ওয়্যারিংয়ের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। বিজিবি আরও জানায়, শুধু আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, সীমান্ত এলাকার যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালানসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখাও এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবকদের সচেতন, দায়িত্বশীল ও কর্মমুখী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিরাপদ ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস, পদাতিক। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি তাদের উৎসাহিত করেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজ যেমন নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে, তেমনি মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকবে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় একটি নিরাপদ, সচেতন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে।