ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৩ আগস্ট ২০২৬ ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
কুড়িগ্রামের ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 23 August, 2026, 6:53 PM

কুড়িগ্রামের ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা জোটবদ্ধ হয়ে বিএডিসির এক সার ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চালছে।

জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সার বিতরণে বিলম্ব এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত কৃষকেরা সার পাবেন না—এমন আশঙ্কা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে তারা মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টের টিনের বেড়া ভেঙে গুদাম থেকে ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ক্ষুব্ধ কৃষকদের মধ্যে অনেকে নিজেদের কাছে থাকা সারের বস্তা ফেরত দেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে সার উত্তোলনের পরিমাণও তুলনামূলক কম ছিল।

তিনি বলেন, সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি জানান, কৃষকেরা মোট ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকেও বেগ পেতে হচ্ছিল। সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আগস্ট মাসে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেই পরিমাণ সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। মূলত কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ে যাওয়া বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা এলাকার একটি ডিলার পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল।

তিনি বলেন, এ সময় হঠাৎ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

ইউএনও আরও বলেন, ইতিমধ্যে কিছু সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status