ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
লেদ ওয়ার্কশপে ব্যর্থ, তালের রস বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়ালেন আনিস
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Saturday, 8 August, 2026, 7:38 PM

লেদ ওয়ার্কশপে ব্যর্থ, তালের রস বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়ালেন আনিস

লেদ ওয়ার্কশপে ব্যর্থ, তালের রস বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়ালেন আনিস

সাত বছর লেদ ওয়ার্কশপের ব্যবসা করেও সফল হতে পারেননি আজিজুর রহমান খান আনিস। ব্যবসায় লোকসান আর হতাশা তাকে একসময় বিপাকে ফেললেও হাল ছাড়েননি তিনি। চাকরির পেছনে না ছুটে প্রকৃতিকেই জীবিকার উৎস হিসেবে বেছে নেন। প্রায় দুই বছর ধরে তাল ও খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন তিনি। এতে এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার চার সদস্যের পরিবার।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গাল গাছ এলাকায় ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় আনিসের কর্মব্যস্ততা। গাছ থেকে সংগ্রহ করা টাটকা তালের রস হাঁড়ি বা প্লাস্টিক পাত্রে করে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। এরপর রস ছেঁকে তা বিক্রি করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছে। তার বিক্রি করা রসের চাহিদা এখন বাঙ্গাল গাছ এলাকাসহ আশপাশের বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

আনিস জানান, দীর্ঘদিন লেদ ওয়ার্কশপের ব্যবসা করেও ভালো করতে পারেননি। পরে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় দুই বছর আগে তাল ও খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন। এখন কয়েকটি গাছ থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ রস পাওয়া যায়, তা বিক্রি করে মাসে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনিসের রসে ভেজাল না থাকায় এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার কাছ থেকে রস কিনতে আসেন। কেউ সরাসরি রস পান করেন, আবার কেউ তালমিছরি তৈরি কিংবা আগুনে জ্বাল দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার জন্য রস কিনে নেন।

একজন ক্রেতা বলেন, আনিস পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। আগের ব্যবসায় সফল না হলেও তিনি হতাশ হয়ে বসে থাকেননি। এখন তাল ও খেজুরের রস বিক্রি করে সততার সঙ্গে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার রসের স্বাদ ভালো হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন।

আনিসের পরিবারের চার সদস্যের জীবিকা এখন মূলত এই রস বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। নিজের শ্রম, সততা ও প্রকৃতির ওপর ভরসা করে পুরোনো ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুনভাবে পথ চলছেন তিনি।

আনিস বলেন, “ব্যবসা করে ভালো করতে পারিনি। পরে চিন্তা করলাম, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করব। প্রায় দুই বছর ধরে তাল ও খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। আল্লাহর রহমতে এখন ভালোই চলছে।”

ব্যর্থতার পর থেমে না গিয়ে নতুন পথ খুঁজে নেওয়া আনিসের এই উদ্যোগ শুধু তার পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেনি, স্থানীয় মানুষের কাছেও তৈরি করেছে ভেজালমুক্ত প্রাকৃতিক রসের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। তার গল্পটি দেখিয়ে দিচ্ছে—সফলতার জন্য সবসময় বড় পুঁজি কিংবা চাকরির প্রয়োজন হয় না; ইচ্ছা, পরিশ্রম ও সঠিক উদ্যোগ থাকলে প্রকৃতির কাছ থেকেও জীবিকার পথ খুঁজে নেওয়া সম্ভব।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status