|
পর্যটন কেদ্রে গড়ার অপার সম্ভাবনা, খুলে যেতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার
নেছারাবাদে জমজমাট ভাসমান পেয়ারার হাট আসছেন দেশি বিদেশী পর্যটক
ওমর ফারুক, নেছারাবাদ
|
![]() নেছারাবাদে জমজমাট ভাসমান পেয়ারার হাট আসছেন দেশি বিদেশী পর্যটক বাগান থেকে সদ্য তোলা টসটসে পেয়ারা সারি সারি নৌকায় করে সকাল বেলা হাট আনেন চাষিরা। খালের ওপর ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চলে দর কষাকষি ও বেচাকেনা। সেখান থেকে পেয়ারা কিনে পাইকাররা দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেন। নৌকা কেন্দ্রিক এ পেয়ারা হাট এখন শুধু স্থানীয়দের অর্থনীতি কেন্দ্র নয়, দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছেও অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান। পর্যটন কেদ্র গড়ার অপার সম্ভাবনা, খুলে যেতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার। পেয়ারার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে হিমাগারসহ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ার দাবি স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আটঘর কুড়িয়ানা শুধু ব্যবসা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয, পেয়ারা বাগান ও ভাসমান পেয়ারার হাট পর্যটনের বড় আকর্ষন। পেয়ারা মৌসুমে বাগান দেখতে ও বাংলার আপেল খ্যাত স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারার স্বাদ নিতে দেশ বিদেশ থেকে ছুটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। ছোট ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চড়ে তারা পেয়ারা বাগান ও পেয়ারার হাটের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বর্তমানে তাদের পদচারনায় পেয়ারার হাট ও বাগান সরগরম। বিশেষ করে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। বেসরকারি উদ্যোগে পেয়ারা বাগানের মধ্যে গড়ে উঠেছে তিনটি মিনি পর্যটন কেন্দ্র। পেয়ারা বাগানের মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য এসব পার্কে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, কাঠের উড়াল সেতু, শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপারী রাইডস ইত্যাদি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে গড়ে উঠতে পারে অপার সম্ভবনাময় পর্যটন কেন্দ্র এবং সরকারও বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করতে পারে এ অভিমত অভিজ্ঞমহলের । পেয়ারা বাগানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষনে সম্প্রতি সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রবীনরা জানান, প্রায় দু’শ বছর আগে পেয়ারার চাষাবাদ শুরু হলেও বিগত প্রায় ৭ যুগ ধরে স্বরূপকাঠিতে চলছে পেয়ারার বানিজ্যিক আবাদ। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, আদমকাঠী, ধলহার, কঠুরাকাঠি, আন্দাকুল, জিন্দাকাঠি, ব্রাহ্মনকাঠিসহ ২৭ গ্রামে ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষাবাদ হয়। পেয়ারা চাষাবাদ ও বিপণন ব্যবস্থার সাথে ঐ সমস্ত এলাকার প্রায় ৮ হাজার শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আষাঢ়, শ্রাবন ও ভাদ্র এ তিন মাস পেয়ারা মৌসুম। পেয়ারা আমড়া চাষী সমিতির সহ সভাপতি জিন্দাকাঠি গ্রামের দীনেশ মন্ডল জানান, এ বছর পেয়ারায় পুনরায় এনথ্রাকনোস নামক (স্থানীয় ভাষায় ছিড়পড়া) রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পেয়ারা বড় হওয়ার আগেই ঝড়ে পড়েছে। এ বছর পেয়ারার ফলন তুলনা মুলক কম বলে জানান চাষিরা। বর্তমানে মন প্রতি পেয়ারা পাইকারিভাবে ৬’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা মৌসুমে ১২/১৩ কোটি টাকা আয় হয় বলে ব্যবসায়ী সুত্র জানায়। পেয়ারার এ মৌসুমে ঢাকা,চাঁদপুর,বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এখান থেকে সরাসরি পেয়ারা কিনে নিয়ে যায়। অপরপক্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন শত শত মন পেয়ারা এখান থেকে ট্রলার ও ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মাহফিজুর রহমান বলেন এ বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি প্রায় ১০ মে.টন পেয়ারা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্রমন ও মুগ্ধতা নিতে সারা বছরই কমবেশি দেশি বিদেশী পর্যটক আটঘর কুড়িয়ানায় আসেন বলে জানান তিনি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, পর্যটকদের জন্য একটি রেষ্ট হাউস ও দুটি ওয়াশ ব্লক নির্মান করা হয়েছে। চাহিদা বাড়লে পর্যটন কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের অভিযানে ৬ কোটি টাকা মূল্যের কুশ মাূকসহ এক চোরাকারবারি আটক
হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের, তার ও সাদ্দামের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
নলডাঙ্গায় ক্লাইমেট অ্যাড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
একটু বিশ্রাম নিতে ইচ্ছা করলেই যেখানে ছুটে যান সুনেরাহ্
