|
সেনাবাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুধুই ভিউ ব্যবসা
নাকি কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সেনাবাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুধুই ভিউ ব্যবসা তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারসহ তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট উঠে এসেছে- সেনাবাহিনী প্রধান বা সরাসরি সেনাবাহিনীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের অধিকাংশই এআই নির্মিত এবং ভিত্তিহীন। মনগড়া তথ্য জুড়ে দিয়ে তৈরি করা এসব কনটেন্ট বা পোস্ট কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন সাইবার অপরাধ বা সাময়িক অপচেষ্টা নয়, বরং এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত বা রাষ্ট্রকে দুর্বল করার সুসংগঠিত তৎপরতা বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভ্রান্তিকর, ভুয়া বা আংশিক সত্য তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে পোস্ট-কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, একইভাবে টার্গেট করা হচ্ছে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।ফলে সশস্ত্র বাহিনীর মতো রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোকে নিয়ে ধারাবাহিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা জনগণের আস্থা নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সামরিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। রিউমর স্ক্যানারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাহিনীর উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে ঘিরে অন্তত ৯৬টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৭৪। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রচারিত অপতথ্য ও গুজবের মাত্রা বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। একই সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে সরাসরি নিশানা বানিয়ে ২১টি সুনির্দিষ্ট ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নিরপেক্ষ ফ্যাক্টচেকিংয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রমাণ হয়। শুধু সেনাবাহিনী নয়, সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ১৯৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীকে ঘিরে ছড়ানো অপপ্রচারের এই হার বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ। সম্প্রতি সময়েও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে নিয়ে বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা বা ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- অপপ্রচারকারীদের এসব কাল্পনিক দাবির সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে অপরিসীম ধৈর্য, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়। চব্বিশের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধানের পদত্যাগের পর দেশে যখন এক গভীর প্রশাসনিক শূন্যতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন সব ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেনি। বরং সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে বেগবান করেন। তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও সহিংসতা বন্ধ করার সরাসরি আহ্বান জানান। অন্যদিকে সেনাবাহিনী সবসময় একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকেই সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালের সামগ্রিক ডিজিটাল চিত্র পর্যালোচনায় রিউমর স্ক্যানার দেশজুড়ে মোট ৩ হাজার ২১০টি অপতথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রচারণার পাশাপাশি বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর উপাদানও বিদ্যমান ছিল। ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সব ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত আপলোড হওয়া তথ্যের একটি বড় অংশই ফরেনসিক বিশ্লেষণে মিথ্যা অথবা বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মভিত্তিক উপাত্তে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ৮২২টি অপতথ্য ফেসবুকে, ৬০০টি টিকটকে, ৫৬২টি ইনস্টাগ্রামে এবং ২৪৫টি ইউটিউবে ছড়িয়েছে। সেনাপ্রধান বা সামরিক বাহিনীর সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা দ্রুততার সঙ্গে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়ানোর ফলে অতি অল্প সময়েই তা বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কোনো ঊর্ধতন কর্মকর্তার পদায়ন, পদোন্নতি হলেই টার্গেট করে সত্য-মিথ্যা যুক্ত করে চমৎপ্রদ পোস্ট বা ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই সারাদেশে ৯৩টি এআই-নির্মিত ভুয়া উপাদান শনাক্ত করা হয়, যার একটি বড় অংশ ছিল সেনাবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে নিশানা করে তৈরি। এ বিষয়ে রাওয়া চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন সমালোচনা ও গুঞ্জন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। এসব প্রচারণার কোনো ভিত্তি নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, জনগণের কাছে বাহিনীকে অজনপ্রিয় এবং সেনাসদস্যদের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রচারণার পেছনে বিদেশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের ইন্ধন রয়েছে। সেনাপ্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব দাবি ও পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর একটি অক্ষরও সঠিক নয়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
গুইমারার রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন ও তরুণদের ক্রীড়া সামগ্রী দিল সেনাবাহিনী
ময়মনসিংহের কলেজ রোডে আদালতের আদেশ অমান্য করে বির্ল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ
ফুডপান্ডার আম্বারিন-জুবায়েরসহ শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
