ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
নেছারাবাদে আটঘর খালে জমে উঠেছে ভাসমান নৌকার হাট
ওমর ফারুক, নেছারাবাদ
প্রকাশ: Thursday, 30 July, 2026, 3:38 PM

নেছারাবাদে আটঘর খালে জমে উঠেছে ভাসমান নৌকার হাট

নেছারাবাদে আটঘর খালে জমে উঠেছে ভাসমান নৌকার হাট

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর খালে জমে উঠেছে ভাসমান নৌকা বিক্রির হাট। নয়নোভিরাম নৌকার পসরা দেখতে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম এখন
ভাসমান নৌকার হাট। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ নৌকার হাটটি এ অঞ্চলের একটি অন্যতম ঐতিহ্য । বর্ষা ও পানির এ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদী খাল বিল পানিতে টইটুম্বর থাকে । 

তখন এ মৌসুমে সহজে পথচলা, মাছ ধরা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয় নৌকা। প্রবীনদের সুত্র জানায়, আশির দশকের প্রথম দিকে ঐ খালে নৌকা বিক্রির হাট শুরু হয় । সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার আটঘর খালে বিকিকিনি হয় নৌকা। বর্ষা মৌসুম এলেই এ উপজেলার চামী, গগন, বিন্না, ডুবি গ্রামসহ পার্শবর্তী নাজিরপুরের বৈঠাকাটা ও বানারীপাড়ার ইলুহার, গাভাসহ বিভিন্ন গ্রামের নৌকা তৈরীর কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় । সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা নৌকা তৈরীর বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটান। এসব এলাকার দু’সহস্রাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নৌকা-বৈঠা তৈরি ও বিক্রি করে তাদের জীবন
জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নদীমাতৃক এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের জীবন- জীবিকার অন্যতম বাহন হচ্ছে নৌকা। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বসে এ নৌকার হাট। আটঘর খাল ও খালপাড়ের রাস্তার ওপরে দু’পাশজুড়ে বিভিন্ন সাইজের নৌকার পসরা বসে। এ হাটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।


 এ হাটের সারি সারি নৌকার নয়োভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদেরও আগমন ঘটে। 

বৃষ্টি বাদলের এদিনে হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। বৃষ্টি হলে দাড়ানোর কোন  জায়গা নেই। বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা রোদের তীব্র তাপে পুড়ে ক্রয় বিক্রয় করতে হয় তাদের। ডুবি গ্রামের নৌকা তৈরীর কারিগর মো. রিয়াদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নৌকা তৈরীর কাজ বেড়ে যায় । 


আগে নৌকা তৈরীতে শাল, সেগুন, সুন্দরী কাঠ ব্যবহার করা হলেও এখন চাম্বল, মেহগিনি, কড়াই, রেনট্রি, গুলাপ, বাদাম গাছের কাঠ  ব্যবহৃত হচ্ছে। নৌকা কারিগর জামাল মিয়া জানান, দু’জন শ্রমিক মিলে দিনে দুটি নৌকা তৈরী করা সম্ভব। নৌকা ব্যবসায়ী চামী গ্রামের কাইয়ুম জানান, এ অঞ্চলের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ নৌকার হাট। এ হাটে নৌকার কাঠ ও সাইজভেদে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় নৌকা। ব্যবসায়ীরা জানান, একশ্রেনির দুরাগত পাইকাররা এখান থেকে নৌকা কিনে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। 


স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বর্ষা ও পানির এ মৌসুমে ধান, বিলের শাপলা, শাক সব্জবি, মাছ ধরা, নার্সারি, পেয়ারা, আমড়া, পানি কচু, লেবু, কলা প্রভৃতি বেচাকেনা চলে নৌকায় করেই। আর এ কারণেই এ সময় নৌকার কদর বেড়ে যায়। নৌকা হাটের ইজারাদার শহীদ মল্লিক জানান বর্তমানে প্রতি হাটে সাড়ে তিন’শ থেকে চার’শ নৌকা বিক্রি হয় । ব্যবসায়ী সুত্র জানায় মৌসুমে ১৮/১৯ কোটি টাকার নৌকা কেনাবেচা হয় এ হাটে ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status