|
ফুলবাড়ীতে পরীক্ষার্থীর শিশুকে কোলে নিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসিল্যান্ড
মোঃ বদরুজ্জামান বিপ্লব, ফুলবাড়ী
|
![]() ফুলবাড়ীতে পরীক্ষার্থীর শিশুকে কোলে নিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসিল্যান্ড মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ও মডেল মসজিদের নিচতলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক ব্যতিক্রমী মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইন। পরীক্ষা দিতে আসা এক নারী পরীক্ষার্থী তার ছোট্ট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পর শিশুটির দেখাশোনা নিয়ে তিনি কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। পরিস্থিতি অনুধাবন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইন নিজেই শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। শিশুটির সঙ্গে স্নেহভরে সময় কাটিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, যেন পরীক্ষার্থী মা কোনো ধরনের উদ্বেগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন। ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেকেই এ দৃশ্যকে প্রশাসনের মানবিক ও জনবান্ধব আচরণের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আন্তরিকতা শুধু দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের বাস্তব প্রতিফলন। পরীক্ষা শেষে উপস্থিত অনেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, প্রশাসনের এমন সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করে এবং সরকারি সেবার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে। ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই একজন প্রকৃত জনবান্ধব কর্মকর্তা নিজেকে আলাদা করে তুলতে পারেন। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, একজন মা যেন মাতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত না হন এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইনের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের মানবিক দৃষ্টান্ত সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
