|
বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা দেশ চীন। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। আমদানি কমানো, বিপুল কৌশলগত মজুত ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশটি অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এসব পদক্ষেপ শুধু দেশটির অর্থনীতিকেই সুরক্ষা দেয়নি, বরং বৈশ্বিক তেলের বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খবর সিএনএনের। ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সোসিয়েতে জেনারেলের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার সময় বিশ্ব সরবরাহ ৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে ১৪ শতাংশ প্রভাব পড়লেও দামের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চীনকে অদৃশ্য হাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা জাপানের মোট চাহিদার প্রায় সমান। যুদ্ধের আগে রাশিয়া ও ইরান থেকে ছাড়মূল্যে তেল কিনে বিপুল পরিমাণ কৌশলগত মজুত গড়ে তোলে বেইজিং। বর্তমানে দেশটির বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে, যা মে মাস থেকে ধীরে ধীরে ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনের দ্রুত বর্ধনশীল বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পও তেলের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির একটি হচ্ছে নতুন জ্বালানি চালিত যান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর শুধু ইভির ব্যবহারের কারণে চীনের দৈনিক তেল চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্বারের বিশ্লেষক ড্যান ওয়াল্টার বলেন, চীন এশিয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় বাফার হিসেবে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৪৭ লাখ ব্যারেল বেশি তেল সরবরাহ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে গেলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল আটকে থাকা তেল আবার বাজারে প্রবেশ করবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানও উৎপাদন বাড়াতে পারে। তবে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা পূরণ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত তেল শোষণ করার সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি চীনেরই রয়েছে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—বেইজিং আদৌ অতিরিক্ত তেল কিনতে আগ্রহী হবে কি না। বিশ্লেষক মুইউ জু বলেন, মাত্র দুই মাস আগের চিত্রের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। এখন বাজারের অতিরিক্ত তেল শোষণ করার সক্ষমতা চীনের আছে, কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—চীন কি তেল কিনতে চায়?
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
