করব জিয়ারত করে আবেগাপ্লুত সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিম, কাঁদলেন নিজেও
রায়হানুর রহমান
প্রকাশ: Saturday, 20 June, 2026, 10:37 AM
করব জিয়ারত করে আবেগাপ্লুত সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিম, কাঁদলেন নিজেও
ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের কবর জিয়ারত করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নিহত মেহেদীর গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে যান সংসদ সদস্য। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন।
এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তিনি মেহেদী হাসানের কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত ও মোনাজাতের একপর্যায়ে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নিজের কান্না ধরে রাখতে পারেননি। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি মেহেদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে সংসদ সদস্য বলেন, মেহেদীর এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, তার নিজের একমাত্র ছেলের নামও মেহেদী হাসান, আর নিহত মেহেদীর বাবা যে কষ্ট অনুভব করছেন, তিনি নিজেও সেই একই কষ্ট অনুভব করছেন।
তিনি জানান, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং তারাও এই মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন। সংসদ অধিবেশন চলার কারণে আগে আসতে পারেননি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ এসে প্রথমেই তিনি কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ১০৪ নং কক্ষে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বাবা জিয়াউদ্দিন রাতেই ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শত শত মানুষ একাডেমির সামনে বিক্ষোভ করেন।
মৃত্যুর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির প্রিন্সিপালসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মৃত্যুর ৪ দিন পরেও রামগঞ্জ থানা পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নাই।