|
বিমানের হজ ফ্লাইটের লাগেজ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাই ও তদন্ত প্রতিবেদন
শাহজাহান চৌধুরী
|
![]() বিমানের হজ ফ্লাইটের লাগেজ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাই ও তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হ্যান্ডলিং টাইমলাইন ও নিরাপত্তা প্রোটোকল: গত ২ জুন ২০২৬ রাতের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের টাইমলাইন এবং বিভিন্ন ফুটেজ বিমান সিকিউরিটি যাচাই করে নিম্নলিখিত বিষয় গুলো তুলে ধরা হলো- ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের পর রাত ২:৫২ মিনিটে Chocks-on হয়। মাত্র ১৩ মিনিটে রাত ৩:০৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ এবং রাত ৩:৫১ মিনিটে (মাত্র ৫৯ মিনিটে) ফ্লাইটের মোট ৮৩৬ পিস ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি বেল্টে দেওয়া সম্পন্ন হয়। উড়োজাহাজের হোল্ড থেকে কনটেইনার, প্যালেট এবং ট্রলি-ডলির মাধ্যমে লাগেজগুলো যখন ব্যাগেজ ডেলিভারি এরিয়াতে আনা হয়, তখন পুরো পথটি সম্পূর্ণভাবে সিকিউরিটি গার্ডের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নিয়ে আসা হয়। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির (AVSEC) কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে ট্রলি-ডলি হতে ব্যাগগুলো লাগেজ ডেলিভারি বেল্টে ড্রপ করা হয়। জাহাজ থেকে ব্যাগ নামানোর সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের গায়ে থাকা 'বডি অন ক্যামেরা' (Body-worn Camera) এবং বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সোর্টিং এরিয়ার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে প্রায় ২১ টি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফ কর্তৃক গৃহীত হয়। সংগৃহীত তথ্য ও অফিশিয়াল লগ বুক রেকর্ড: গ্রাউন্ড সার্ভিসেস-এর লস্ট এন্ড ফাউন্ড এর শিফট ডেস্কে কর্তব্যরত স্টাফ, অফিশিয়াল লগ বুক এবং অন্যান্য স্টাফদের সাথে আলোচনা করে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ পাওয়া যায়: ফেসবুক পোস্টে ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কাটার যে দাবি করা হয়েছে তার পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ নেই। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত ফ্লাইটে আসা ৮৩৬ পিস ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের নিকট মৌখিকভাবে জানান। আক্রান্ত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত লাগেজগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু ও লোশন) এবং খেজুর ছিল। সম্মানিত যাত্রীদের ব্যাগ থেকে মূল্যবান কোনো সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তাঁর ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন। কর্তব্যরত বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফরা উক্ত যাত্রীগণকে বিমানবন্দরের 'লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড' (LL Desk) ডেস্কে গিয়ে অফিশিয়াল লিখিত অভিযোগ (Property Irregularity Report PIR) দায়ের করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সম্মানিত ঘাত্রীরা কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। পর্যবেক্ষণঃ উপরোক্ত তথ্যাদি, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি অন ক্যামেরার রেকর্ড, IATA Regulations এবং সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন জেনারেল অথরিটি (GACA)-এর নিরাপত্তা বিধিমালা পর্যালোচনা করে নিম্নলিখিত পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হলো- সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেক-ইন লাগেজের (Checked Baggage) ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি এবং যথাযথভাবে সিলগালা না করা তরল প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদি) বহন করতে পারবেন না। ২. জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় এই নিষিদ্ধ তরল পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়লে, সৌদি বিমানবন্দর সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। ৩. আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিক্লারেশন ছাড়া এই ধরনের সামগ্রী লাগেজে রাখা এভিয়েশন বিধিমালার পরিপন্থী। ৪. ঢাকা বিমানবন্দরে BG3104 এ যাত্রী ব্যাগেজ মিসহ্যান্ডলিং/কাটা/ছেঁড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। ৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত '১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি'-এর দাবিটি সত্য নয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
