ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
দামুড়হুদায় ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য ও সম্ভাবনা
সাজিদ হাসান সোহাগ,দামুড়হুদা
প্রকাশ: Thursday, 14 May, 2026, 11:02 AM

দামুড়হুদায় ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য ও সম্ভাবনা

দামুড়হুদায় ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য ও সম্ভাবনা

চারদিকে সবুজের সমারোহ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফল গাছ। সবুজ গাছে শোভা পাচ্ছে গোলাপি, লাল আর সবুজ ফল। স্বপ্নীল পরিপাটি এ বাগানটি গড়ে তুলেছেন দামুড়হুদার কানাইডাঙ্গা গ্রামের সফল ড্রাগন চাষী সেলিম উদ্দীন । তিন বিঘা জমিতে দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী ফল ড্রাগন  চাষ করে সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। শুধু সেলিম না  ড্রাগন ফলের চাষ করছেন উপজেলার অনেকেই। সেলিম জানান, ২০২১ সালের শেষদিকে তিন বিঘা জমিতে ড্রাগনের বাগান গড়ে তোলেন তিনি।


জমি প্রস্তুত, খুঁটি বসানো, চারা, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ—সব মিলিয়ে শুরুতে তার ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। ছয় মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে। প্রথম বছরে সীমিত পরিসরে ফল বিক্রি করেন। তবে পরের বছরই বাগান থেকে আসে বড় সফলতা। গত বছর সালে হানিফের তিন বিঘা জমির ড্রাগন বাগান থেকে ফল বিক্রি হয় ২৫ লাখ ১৫ হাজার টাকার। সেলিম জানান, তার বাগানের ড্রাগন গাছের একেকটি ডালে ছয়-সাতটি করে ফুল আসে। উন্নতমানের ফল পেতে তিনি প্রত্যেক ডালে দুটি করে ফল রাখেন। 

বাকিগুলো ছেঁটে ফেলেন। এতে ফলের আকার ও গুণগত মান ভালো থাকে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে। তবে বাজারদর ২০০ টাকার কাছাকাছি থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে চলতি মৌসুমে আরো অন্তত ২৫ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির আশা করছেন এই সফল কৃষক। সেলিম বলেন, শুরুতে অনেকেই ড্রাগন চাষ নিয়ে সন্দেহ ছিল।

কিন্তু আমি আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা করি। এখন আমার বাগান দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে। বাজার ভালো থাকায় লাভও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচও বাড়ছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমার মোট খরচ প্রায় ২১ লাখ টাকা। ইতিমধ্যেই ২৫ লাখ ১৫ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। চলতি বছর আরো ২৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছি। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা থাকলে ড্রাগন চাষ কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।স্থানীয় কৃষকদের মতে, কম জমিতে বেশি লাভ এবং বাজারে চাহিদা থাকায় ড্রাগন চাষ এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। সফল কৃষকদের দেখাদেখি অনেকেই নতুন করে ড্রাগনের বাগান গড়ে তুলছেন। ফলে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ধীরে ধীরে ড্রাগন চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে ড্রাগনের আবাদ। গতবছর উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে সেই পরিমাণ বেড়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ড্রাগন বর্তমানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফল। আমাদের অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু এই চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলন পাচ্ছে কৃষক। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক বিভিন্ন ধরনের টনিক ব্যবহার করেন, যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কৃষকদের নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষে উৎসাহিত করছি।

অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, ড্রাগন চাষ শুধু কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে না, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ড্রাগন চাষ আরো বাড়বে। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status