|
পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটন ঢাকার বলরুমের এক পরিশীলিত আয়োজনের ভেতর, এপিইউবি ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশিকা এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় তাদের ভিশন উপস্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখা হয়েছে “বিকল্প” হিসেবে। কিন্তু এপিইউবি সেই ধারণাকে পাল্টাতে চায়। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) আয়োজিত এই সভা ছিল আপাতদৃষ্টিতে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান। কিন্তু উপস্থিত বক্তাদের বক্তব্যে এটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় একটি নীতিগত অবস্থান ঘোষণায়। এপিইউবি সভাপতি মো. সবুর খান সভায় বলেন, ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত যৌথ কর্মপরিকল্পনা কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা নয়, বরং একটি কাঠামোগত রূপান্তরের রূপরেখা। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি প্রেজেন্টেশন নয়, এটি একটি ভিশন—যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল একটি দীর্ঘদিনের দাবি—নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সীমিত নয়, বরং অপরিহার্য। বাংলাদেশে বর্তমানে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে লাখো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চশিক্ষার প্রধান ভরসা। তবুও নীতিগতভাবে এগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে “বিকল্প” বা “সেকেন্ড টিয়ার” হিসেবে দেখা হয়েছে—যা এখন এপিইউবি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছে। ![]() পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এই বক্তব্যকে অনেকেই বেসরকারি খাতের ভূমিকার একটি নীতিগত স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়েও সতর্ক করেন। অতিরিক্ত মনিটরিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রেড ট্যাগ সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে না।” তবে তিনি এটিও যোগ করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এমন স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না যা ঝুঁকি তৈরি করে। এই দ্বৈত অবস্থান—স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণ—বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিতর্ক হিসেবে উঠে এসেছে। ![]() পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এই মন্তব্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অর্থায়ন, গবেষণা সুযোগ এবং নীতিগত সুবিধার অসমতা আবারও আলোচনায় আসে। এপিইউবি’র পক্ষ থেকে একটি সুসংগঠিত সংস্কার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— • পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমান নীতিগত সুবিধা • স্কলারশিপ ও গবেষণা তহবিল সম্প্রসারণ • আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো উন্নয়ন • বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের কৌশল ![]() পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলোর একটি ছিল একাডেমিক স্বাধীনতা। বক্তারা বলেন, পিএইচডি প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ, গবেষণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের জন্য অধিক স্বাধীনতা প্রয়োজন। তবে রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আনা হয়। এই টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা কি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি একটি বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বমূলক কাঠামোর দিকে যাবে? পাবলিক-প্রাইভেট বিভাজন ভেঙে শিক্ষা হাবের স্বপ্নে নেতৃত্ব দিতে চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি তাদের যুক্তি অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয় এবং কার্যকর। তবে তারা এটিও স্বীকার করেন যে মানের বৈচিত্র্য, গবেষণায় বিনিয়োগের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের দাবিও সভায় জোরালোভাবে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, যারা সরাসরি শিক্ষা পরিচালনা করছে, তাদের অভিজ্ঞতা ছাড়া টেকসই নীতি তৈরি সম্ভব নয়। একজন অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রশাসক বলেন, “মাঠের বাস্তবতা ছাড়া নীতি কাগজে সুন্দর দেখালেও বাস্তবে কাজ করে না।” সভা শেষে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত একটি পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামো, অন্যদিকে দ্রুত সম্প্রসারিত বেসরকারি খাত—এই দুই শক্তির সম্পর্ক ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার দিক নির্ধারণ করবে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—রাষ্ট্র কি এই উদীয়মান বেসরকারি শক্তিকে একটি অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করবে, নাকি পুরোনো কাঠামো বজায় রেখে ধীরগতির সংস্কারের পথেই থাকবে? যে পথই বেছে নেওয়া হোক, একটি বাস্তবতা এখন স্পষ্ট—বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর প্রান্তিক নয়। তারা এখন নীতিগত আলোচনার কেন্দ্রেই অবস্থান করছে, এবং সম্ভবত ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থারও কেন্দ্রে চলে আসছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
