|
হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি
শহীদুল ইসলাম শরীফ
|
![]() হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি একসময় গ্রামবাংলার দিগন্তজোড়া মাঠের পাশে সারি সারি তালগাছে দলবেঁধে বাবুই পাখি বাসা বুনত। তবে তালগাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে নারিকেল কিংবা খেজুর গাছেও এদের বাসা বাঁধতে দেখা যায়। খড়, কুটা আর তাল, নারিকেল বা খেজুর গাছের কচিপাতা দিয়ে তৈরি এই বাসাগুলো যেমন মজবুত, তেমনি দৃষ্টিনন্দন। এমনকি প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও এই নিপুণ কারুকাজ ছিঁড়ে পড়ে না। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এই দৃশ্য এখন বিরল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে এই শৈল্পিক পাখিটি আজ বিলুপ্তির পথে, যেমন উঁচু তালগাছ বা খেজুর গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলায় পাখিরা তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারাচ্ছে, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য, বিভিন্ন ধরণের পোকামাকড় ও শস্যদানা বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের বংশবিস্তারে বাধা দিচ্ছে, অনাবৃষ্টি এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাবুই পাখি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এরা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষি সুরক্ষা প্রদান করে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। এই নিপুণ কারিগরদের রক্ষায় এখন সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে উঁচু তালগাছ বা নারিকেল গাছ রোপণ বৃদ্ধি এবং পাখির অভয়াশ্রম নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, আগামী প্রজন্ম হয়তো শুধু বইয়ের পাতাতেই এই শিল্পের বড়াই দেখতে পাবে। বাংলার প্রকৃতি থেকে ‘শৈল্পিক কারিগর’ বাবুই পাখি যেন পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেজন্য এখনই জনসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
