|
সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না থামছে না মধ্যনগরে বাঁধ ভাঙন,পানিতে ডুবছে সোনালি ফসল
এস এম মিজান, সুনামগঞ্জ
|
![]() সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না থামছে না মধ্যনগরে বাঁধ ভাঙন,পানিতে ডুবছে সোনালি ফসল শনিবার(২ রা মে) ভোরের বৃষ্টির পর সোমেশ্বরী নদীর পানির চাপ বেড়ে গিয়ে জামে মসজিদের পাশের কালভার্ট সংলগ্ন পাউবোর নির্মিত বাঁধটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল স্রোতে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে তলিয়ে যায় কাটার অপেক্ষায় থাকা সোনালি ধানক্ষেত। সকালে যারা ধান কাটার উদ্দেশ্যে হাওরে গিয়েছিলেন, তারা হঠাৎ এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউবা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দেখেন নিজের ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ডুবন্ত ধান কাটা, অন্যদিকে ভাঙা বাঁধ রক্ষা এই দোটানায় পড়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে ছিল চরম অবহেলা। কালভার্টের মুখে কোনো শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেমন আড়-প্যালাসেটিং না থাকায় সহজেই ভেঙে যায় বাঁধটি। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। মধ্যনগর গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন জানান, তার ১৭ কেয়ার জমির ধান কাটার বাকি ছিল। শ্রমিক নিয়ে হাওরে গিয়ে দেখেন, মুহূর্তেই সব তলিয়ে গেছে। এখন আর কিছুই করার নাই বলতে বলতেই ভেঙে পড়েন তিনি। মধ্যনগর ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেছেন, প্রায় ২০ হেক্টর জমির ধান এখনো কাটা হয়নি, যা ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, অধিকাংশ ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবারও শালদিঘা হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছিল। যদিও দিনভর চেষ্টা চালিয়ে সেই ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু বোয়ালা হাওরের এই নতুন বিপর্যয় আবারও হতাশায় ডুবিয়েছে পুরো এলাকার কৃষকদের। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
