|
হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মাছ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মাছ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, সকালে ও দুপুরে নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা। হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, কয়েকদিন ভারি বৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিন হালদায় পাহাড়ি ঢলও নেমেছে। গতকাল রাতে খুব অল্প পরিমাণে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। সকালের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় নমুনা ডিম মিলছে। একশ গ্রাম থেকে আড়াইশ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন কোনো কোনো সংগ্রহকারী। গড়দুয়ারার নয়াহাট এলাকায় এখনো নমুনা ডিমের খোঁজে নদীতে ৪০টির মত নৌকা আছে। হালদা নদীতে বছরের এরকম সময়ে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত) বজ্রসহ বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ার ও ভাটার সময়ে নিষিক্ত ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ। নদীতে রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের ছাড়া সেই নিষিক্ত ডিম বিশেষ ধরনের জাল দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। পরে হ্যাচারিতে তা থেকে রেণু পোনার জন্ম হয়। হালদায় গত এক মাস ধরে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে জানিয়ে হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, “৩১ মার্চ ফটিকছড়ির রাবার ড্যামটি খুলে দেওয়ার পর থেকে নদীতে মা মাছের আনাগোনা অনেক বেড়েছে।” ডিম ছাড়ার মৌসুমে হালদার সাথে সংযুক্ত খাল ও বিল হয়েও মা মাছেরা নদীতে আসে। হালদায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে পরিবেশ অনকূলে থাকলে কিছু পরিমাণে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছেরা। তাই বৃহস্পতিবার নমুনা ডিম পাওয়ার পর পুরোদমে ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, দুদিন হালদায় ঢল ছিল। আজ সকাল থেকে আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনাসহ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম মিলেছে। এখন (বেলা ২টার দিকে) জোয়ার শেষ হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভাটার জো তে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করছি। হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা পুরোদমে প্রস্তুত আছেন। হ্যাচারিগুলোও প্রস্তুত আছে। প্রতি বছর হালদা নদীর মদুনাঘাটের কাছে ছায়ার চর, রামদাস মুন্সিরহাট, আমতুয়া, নাপিতার গোনা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা, কাগতিয়া, আইডিএফ হ্যাচারি, সিপাহী ঘাট, নোয়াহাট, কেরামতালির বাক এবং অঙ্কুরিগোনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলে ডিম সংগ্রহের উৎসব। ২০২৫ সালে হালদা থেকে ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ হলেও ২০২৪ সালে হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়েনি। ওই বছর কয়েক দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছিল কার্প জাতীয় মাছেরা। তাতে মোট ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১৪৮৬ কেজি মাত্র। তার আগে ২০২৩ সালে ডিম সংগ্রহ হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি। হালদা যেখানে কর্ণফুলীর সঙ্গে মিশেছে, সেই কালুরঘাট সেতুর কাছের অংশ থেকে উজানে মদুনাঘাট হয়ে নাজিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশে নদীর দুই তীরে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি এই তিন উপজেলা। মদুনাঘাট থেকে সমিতির হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে হাটাহাজারী ও রাউজান উপজেলা সংলগ্ন অংশেই মেলে নিষিক্ত ডিম। এই অংশেই মা মাছের আনাগোনা বেশি। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে চলতি মৌসুমের মা মাছের আনাগোনা শুরু হয়েছে নদীতে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
