|
রাজারহাটে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রাজারহাটে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমের মধ্যেই পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ব্যাহত হচ্ছে রাতের পড়াশোনাও। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯১ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে তা বেড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়, তাদের আওতায় প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ১২ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯ মেগাওয়াট। রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী গ্রামের শিক্ষার্থী রিদয় আহমেদ বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমেও কষ্ট হচ্ছে।” একই ইউনিয়নের মিলেরপাড় এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী মমিনুর ইসলাম ও মিম খাতুন বলেন, “পড়তে বসলেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর আসে। এতে প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছে।” শুধু শিক্ষার্থীই নয়, কৃষকরাও পড়েছেন চরম সংকটে। বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়ছেন তারা। ছিনাই ইউনিয়নের সেলিমনগর গ্রামের সেচচালক শামসুল আলম বলেন, “মোটর চালু করি, কিন্তু পানি জমিতে পৌঁছানোর আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়।” চাকিরপশার ইউনিয়নের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, “এখন জমিতে পানির খুব প্রয়োজন। যেখানে এক ঘণ্টা সেচ দিলেই হওয়ার কথা, সেখানে তিন ঘণ্টাতেও কাজ হচ্ছে না।” লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ওপরও। রাজারহাট বাজারের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাকিল বলেন, “সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই ঘণ্টা পর আসে। এতে সময়মতো কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।” এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো ঠিকমতো চার্জ দিতে না পারায় চালকদের আয় কমে গেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্স কাজেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। রাজারহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।” তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় তিনি জানাতে পারেননি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
