ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, মায়ের অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 21 April, 2026, 4:47 PM

ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, মায়ের অভিযোগ

ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, মায়ের অভিযোগ

নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যার কথা বললেও, নিহত পপি সুলতানার মায়ের অভিযোগে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি। 

সোমবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন—নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

পুলিশ জানায়, হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর শিশু পারভেজ ও সাদিয়াকে হত্যা করা হয় মাথায় আঘাত করে।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। ঘটনার দিন মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ডাকাতির পর পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। এ  সময় স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে তারা। 

তবে নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। ওরা ৫ বোন মিলে আমার মেয়ে-জামাইকে মেরে ফেলেছে।'

তিনি জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। কয়েকদিন আগেও পপিকে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং তা নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়।

সাবিনা বেগম বলেন, 'ননদ শিরিনা, তার স্বামী ভুটি এবং তাদের পরিবারের লোকজন মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। গ্রামে সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।'

জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

হাবিবুর রহমান তার বাবার একমাত্র ছেলে। সম্প্রতি তার বাবা পাঁচ মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি দেন। হাবিবুরকে দেন বাড়িভিটাসহ প্রায় ১০ বিঘা জমি। এই জমি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। 

সাবিনা বেগম বলেন, 'আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতে তারা হিংসা শুরু করে, এই পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ডালিমা, শিরিনা, সুফি, সাহানারা ও কমেলা— এই পাঁচ বোন এবং তাদের স্বামীরা মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।'

মেয়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে সাবিনা বেগম বলেন, 'রাতেও কথা হয়েছে। সে বলেছিল- মা, তোমার নাতি পিঠা খাবে। আমি বললাম বানিয়ে দিও। সে বললো- মা, রাত হয়ে গেছে, কাল বানাবো।'

নিয়ামতপুর থানার কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও পারিবারিক বিরোধসহ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

এলাকায় শোক ও আতঙ্ক

ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের চারজনকে এভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status